কয়লা দূষণের হাত থেকে সুন্দরবন, ইলিশ ও লবণ রক্ষার দাবিতে সমাবেশ
রাজধানীর শ্যামলী পার্ক মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১২:২২ | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১২:২২
কয়লা দূষণের হাত থেকে সুন্দরবন, ইলিশ ও লবণ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হবে ২০৩৫ সাল বা তার আগে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা। তাই, রামপাল, তালতলি, কলাপাড়া, মহেশখালী ও বাঁশখালিতে বিগত সরকারের স্থাপিত সকল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও পথরেখা গ্রহণ করে অমূল্য সম্পদ সুন্দরবন, জাতীয় মাছ ইলিশ ও লবণকে সুরক্ষা দিতে হবে।
কয়লা দূষণের হাত থেকে সুন্দরবন, ইলিশ ও লবণ রক্ষার দাবিতে রাজধানীর শ্যামলী পার্ক মাঠে মঙ্গলবার এক প্রতিবাদ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন ও রিভারাইন পিপলসহ ২০টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতীকী প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমন্য (ধরা) এর সদস্যসচিব শরীফ জামিল।
এতে সংহতি বক্তব্য রাখেন কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এসএম বদরুল আলম, রিভারাইন পিপল এর ট্রাস্টি এফ এম আনোয়ার হোসেন, এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভস (ইআরডিএ) এর নির্বাহী পরিচালক মনির হোসেন চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ইকুইটি বিডি এর পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ, সচেতন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি, 350.org এর দক্ষিণ এশিয়া কো-অর্ডিনেটর আমানুল্লাহ পরাগ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী কিছুটা কয়লার বিস্তার রোধ করতে পারলেও সম্পূর্ণভাবে কয়লার ছোবল থেকে এখনও মুক্ত হতে পারিনি। পুরোপুরি কয়লার বিস্তার রোধ করতে হলে ন্যায্য ও দ্রুত অর্থায়নের মাধ্যমে কয়লা উত্তোলন, পরিবহন ও ব্যবহার থেকে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীকে বেরিয়ে আসতে হবে। ধ্বংসের অনুঘটক এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদিত জ্বালানি শক্তিকে জনগণ ও সমাজের জন্য ব্যবহার উপযোগী নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে, কয়লা অথবা গ্যাস কখনই ‘রুপান্তরিত জ্বালানি শক্তি’ হতে পারে না। জ্বালানি শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করা- এই দুইয়ের জন্যই জলবায়ু অর্থায়ন তহবিল থেকে অর্থের যোগান দিতে হবে। নানারকম অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করে তা দৃঢ়তার সাথে বাস্তবায়ন করতে হবে।
জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ পরিষদ সম্মেলনের প্রাক্কালে সমগ্র বিশ্বনেতাদের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বানে এশিয়া এনার্জি নেটওয়ার্ক ও এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর ডাকে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৯টি দেশের ৭০টি প্রদেশ ও নগরীতে কয়লা দূষণ বন্ধের দাবিতে একযোগে নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এই দৃশ্যমান প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
