ধর্ষণে বাধা পেয়ে গরম ছুরির ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২১:১২
ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় এক তরুণীর শরীরে লোহার গরম ছুরির ছ্যাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ সদস্য শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শামীম ময়মনসিংহ রেঞ্জে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ভুক্তভোগী তরুণী একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবীর।
গত ২১ আগস্ট শামীমের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরের কমপ্লেইন সেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী তরুণী। পাশাপাশি অভিযুক্ত শামীমের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মামলাও দায়ের করেছেন তিনি। মামলাটি তদন্তাধীন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলক্ষেত থানার এসআই মো. শামীম হক সমকালকে বলেন, ঘটনার পর কনস্টেবল শামীম সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। শামীম ময়মনসিংহ রেঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পুলিশ ফুটবল ক্লাবের সদস্য। এখন কোথায় আছেন; তা জানা নেই। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সদর দপ্তরে করা অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগীর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধু মাধ্যমে কনস্টেবল শামীমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ওই বন্ধুর কাছ থেকে তরুণীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন বিবাহিত শামীম। নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে তরুণীর সঙ্গে ফোনে কথা বলা শুরু করেন। একপর্যায়ে মেয়েটিকে তার পছন্দ হয়েছে বলে জানান এবং প্রেমের প্রস্তাব দেন। তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর কনস্টেবল শামীম তরুণীকে ফুসলিয়ে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ-২ এ তার বাসায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ বসে কথা বলার পর পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক কিছু মিশিয়ে তরুণীকে খেতে দেন। সেটি খাওয়ার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে চেতন ফিরলে একটি কক্ষে নিজেকে বিবস্ত্র অবস্থায় আবিষ্কার করেন। অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ করা হয়েছে বুঝতে পেরে তরুণী শামীমের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তখন শামীম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিয়ের কাজটি সেরে ফেলবেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয় বলা হয়, বিয়ের প্রলোভনে পরবর্তীতে শামীম তাকে একাধিক দিন ধর্ষণ করেন। ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট তাকে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। তখন তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে মোটরসাইকেলে ৩০০ ফিট এলাকায় নিয়ে হত্যার উদ্দেশে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তরুণীকে রাস্তায় ফেলে দেন। এতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন তিনি। আহত হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছয়দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় তরুণী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে-এমন আশঙ্কায় কনস্টেবল ক্ষমা চেয়ে পুনরায় সঙ্গে ভালো আচরণ শুরু করেন।
সেখানে আরও বলা হয়, গত ৬ মে দুপুরে তরুণীকে আবার খিলক্ষেত নিকুঞ্জের বাসায় নিয়ে যান বিয়ের কথা বলে। বাসায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শামীম ধর্ষণের উদ্দেশে তাকে জড়িয়ে ধরেন। এতে বাধা পেয়ে রান্নাঘর থেকে ছুরি চুলায় গরম করে এনে তরুণীর পেটের ডানপাশে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে শামীম তাকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ২৭ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এ মামলা করেন। পরে আদালত খিলক্ষেত থানাকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী তরুণী সমকালকে বলেন, কনস্টেবল শামীম নিজেকে অবিবাহিত দাবি করলেও পরে জানতে পারি তার স্ত্রী সন্তান রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে। শামীম আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় আমার ভাইয়ের বাসায় গিয়েও মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে এসেছে।
অভিযুক্ত শামীমের মন্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।
- বিষয় :
- ধর্ষণ
- ধর্ষণ মামলা
- পুলিশ সদস্য
