আসকের বিবৃতি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের দাবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২২:৪০
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবি শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়; বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমাজে বিভেদ ও বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রচেষ্টা বলে মনে করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংস্থার সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ মত প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা ও শিল্প-সাহিত্যে অংশগ্রহণের অধিকার দিয়েছে। বাংলাদেশ একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ, যেখানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সামাজিক আন্দোলন এবং সব গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সংগীত ও শিল্প-সংস্কৃতি ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সংগীত শিক্ষা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। এই ঐতিহ্যকে রক্ষা ও বিকশিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং সামাজিক সম্প্রীতির অপরিহার্য শর্ত।
এই প্রেক্ষাপটে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের দাবি শুধু সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি নয়; বরং আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা।
আসক মনে করে, শিশুদের সার্বিক মানসিক বিকাশের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও চর্চার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
দুঃখজনকভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে, কিছু গোষ্ঠী সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের দাবিকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিল্প-সংস্কৃতিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা কেবল অযৌক্তিকই নয়; বরং সমাজকে একপেশে করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করছে, যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক ফলাফল আমাদের জাতীয় ঐক্য ও সংস্কৃতির ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- বিষয় :
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র
- আসক
- বিবৃতি
