জুলাই আন্দোলন ষড়যন্ত্র না, ছিল দাবির প্রতিফলন
.
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:০৫ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১০:৫৮
জুলাই আন্দোলন দমন করতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই আন্দোলন ষড়যন্ত্র না, ছিল শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতিফলন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেনের জেরার জবাবে এসব কথা বলেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। গতকাল সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ৪৮তম সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি এ সাক্ষ্য দেন।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল বৈধ সরকারকে উৎখাতের মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ। আন্দোলনকারীরা নিজেরাই ষড়যন্ত্রকারী ছিল। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তারাই টার্গেট করে আন্দোলনরত লোকদের হত্যা করেছে। বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এ গতকাল আলী আহসান জুনায়েদের জেরা শেষ হয়।
এদিন পলাতক দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, কোটা সংস্কার সমাধানের জন্য যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা উপেক্ষায় একের পর এক বেআইনি কর্মসূচি দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা।
হাসপাতালে ভাইয়ের লাশসহ পাঁচটি মরদেহ দেখি
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গতকাল ৪৯তম সাক্ষ্য দিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী।
জবানবন্দিতে সেবন্তী বলেন, গত বছরের ১৯ জুলাই দুপুরে খাওয়ার পর আমার ভাই সৈকত মোহাম্মদপুরে নূরজাহান রোডের দক্ষিণ মাথায় আন্দোলনে যোগ দিতে যায়। আনুমানিক বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পুলিশ কাছ থেকে সৈকতকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। তখন আমার বাবা সন্দীপে ছিলেন। তিনি সেখান থেকে সৈকতের মোবাইলে কয়েক বার ফোন দেন। এক পর্যায়ে অপরিচিত ব্যক্তি ফোন ধরে বাবাকে জানান, এ ফোনটি যার তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। আমরা তাঁকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত হাসপাতালে আসেন, অন্যথায় লাশও পাবেন না।
খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে ভাইয়ের লাশসহ পাঁচটি মরদেহ দেখতে পাই। সৈকতের মাথায় গুলি লেগেছিল। তার মাথায় ব্যান্ডেজ ছিল। অন্য লাশের প্রত্যেকের মাথায়, পেটে, বুকে গুলির চিহ্ন দেখা যায়।
ভাইয়ের হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়ী করেন সেবন্তী। এছাড়াও শেখ হাসিনার বিভিন্ন ফোনালাপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি যাদের নির্দেশ মেনে ছাত্র-জনতার ওপর লেথাল উইপন ব্যবহার করে হতাহত করা হয়েছে তাদের বিচার চান তিনি।
