পরিবেশ দূষণ
চাপে পড়ে সরকার গাড়ি মালিকদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত
জাহিদুর রহমান ও দেলওয়ার হোসেন
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৬ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:৩৯
রাজধানীর সড়কে কয়েক মিনিট দাঁড়ালেই চোখে পড়বে ফিটনেসহীন গাড়ি কোন মাত্রায় কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো এসব লক্কড়ঝক্কড় বাস-মিনিবাস আর ট্রাকের ইঞ্জিন চাপ নিতে পারে না। তবু প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন নিয়মিত ঢাকার বাতাসকে দূষিত করেই যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এভাবে চললেও নেওয়া হচ্ছে না কার্যকর পদক্ষেপ।
খোদ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকেই কালো ধোঁয়া নির্গত গাড়ির ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়– এমন অভিযোগ বহুদিনের। আবার অনেক গাড়ি বছরের পর বছর ফিটনেস সনদ না নিয়েও অবাধে চলাচল করছে ঢাকার রাজপথে।
২০ বছরের পুরোনো বাস ও ২৫ বছরের পুরোনো ট্রাক সড়ক থেকে সরানোর উদ্যোগ নিয়েও পিছু হটে সরকার। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ধর্মঘটের হুমকিতে সবকিছু ভেস্তে যায়। গত ২০ জুলাই পুরোনো যানবাহন উচ্ছেদে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, অভিযান দিন-রাত চলবে। কিন্তু মালিক-শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘটের হুমকি দিলে সরকার সে অভিযান থেকে সরে আসে। পুরোনো যানবাহন উচ্ছেদে সরকারের প্রতিশ্রুতি কার্যকর তো হয়ইনি, উল্টো পরিবহন ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পথে হাঁটছে সরকার।
আগে বাণিজ্যিক রিকন্ডিশন্ড বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা প্রাইম মুভার আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল পাঁচ বছর। এখন তা বাড়িয়ে ১২ বছর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এসব গাড়ি কেনার জন্য মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি আয়করের বোঝা কমানোর দিকেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে এ নিয়ে বৈঠক হয়, যেখানে পুরোনো যানবাহন আমদানির বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বিদ্যমান আমদানিনীতি সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে শিগগির বৈঠক হবে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে। এদিকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ সংশোধনের কাজও চলছে। নতুন আইনে চালক ও সহকারীর সাজা এবং জরিমানা কমানোর প্রস্তাব আছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে শাস্তির ভীতি কমে গেলে খাতটিতে আরও নৈরাজ্য দেখা দেবে।
তবে পুরোনো গাড়ি সরানো ছাড়াই নতুন সুবিধা দেওয়া হলে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছেন পরিবহন বিশ্লেষকরা। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবহন খাত সংস্কারের প্রচেষ্টা বারবার ভেস্তে যাচ্ছে শুধু প্রভাবশালী মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করার কারণে। ফলে নৈরাজ্য বেড়েই চলেছে। ঢাকার দূষণও কমছে না।
নীতিমালায় বয়সসীমা বাড়ছে দ্বিগুণের বেশি
গত ৩১ আগস্ট সচিবালয়ে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সভাপতিত্বে পুরোনো যানবাহন আমদানি বিষয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে পর্যায়ক্রমে অপসারণের সহায়ক হিসেবে জাপানি ও ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের বাণিজ্যিক রিকন্ডিশন যানবাহন (বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইম মুভার) আমদানির সময়সীমা ৫ থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করা হবে। এ জন্য অর্থ, সড়ক ও বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং এনবিআর ও সড়ক পরিবহন মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি সভা আহ্বান করতে বলা হয়। এ ছাড়া বিদ্যমান আমদানি নীতি-আদেশ (২০২১-২৪) সংশোধনের জন্য বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ৫ সেপ্টেম্বর সমকালকে বলেন, আমদানি গাড়ির বয়সসীমা ৫ থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব যানবাহনে শুল্কের বিষয়টি এনবিআর পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। স্বল্প সুদে ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে শিগগির বৈঠক করা হবে। ঋণ দেওয়ার পরও পুরোনো গাড়ি বন্ধ না করলে কী করবেন– এ প্রশ্নে সড়ক উপদেষ্টা বলেন, যাত্রীদের কথাও চিন্তা করতে হবে। নতুন না কিনে পুরোনো গাড়ি সড়ক থেকে তুলে নিলে যাত্রীদের অসুবিধা হবে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, বিদ্যমান আমদানি নীতি আদেশে পুরোনো মোটরযানের পাঁচ বছরের সময়সীমা প্রত্যাহার করে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের কাজ চলছে। এটি কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। সেগুলো সমাধানের জন্য শিগগির একটি সভা আহ্বান করা হবে।
ভারত-চীন থেকেও ১২ বছরের পুরোনো গাড়ি আমদানি হতে পারে
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান আমদানিনীতি সব দেশের জন্য প্রযোজ্য। জাপানি ও ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ভারত, চীন থেকেও ১২ বছরের পুরোনো গাড়ি আমদানি হতে পারে। ভারত ও চীনের ১২ বছরের পুরোনো গাড়ির ফিটনেস ভালো থাকার কথা নয়। আবার কম সুদে ঋণের সুবিধা বড়-ছোট সব গাড়ি মালিক পাবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এ জন্য বাণিজ্য ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন।
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আমদানি যানবাহন বায়ুদূষণ, ফিটনেস, অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (ইকোনমিক লাইফ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বিআরটিএর হিসাবে, গত জুন পর্যন্ত সারাদেশে ২৫ বছরের পুরোনো ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাঙ্কারের সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ১৪০। সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ৩৯ হাজার ১৬৯।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০২৩ সালের ১৭ মে বাস-মিনিবাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ বছর। আর ট্রাক-কাভার্ডভ্যানসহ মালবাহী যানের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয় ২৫ বছর। তবে তৎকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধার মুখে পিছু হটে। পুরোনো যানবাহন সড়ক থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৯ জুন পুরোনো যানবাহনের বয়সসীমার আগের প্রজ্ঞাপনটি বহাল করে। পাশাপাশি এসব যান সড়ক থেকে উঠিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক থেকে পুরোনো যানবাহন উঠিয়ে দেওয়াসহ পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত ২৪ অক্টোবর এবং ১৯ ডিসেম্বর দুই দফা বৈঠক হয়। সরকারের সিদ্ধান্তের পর ২০ বছরের পুরোনো বাস ও ২৫ বছরের পুরোনো ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ঢাকা মহানগর থেকে উচ্ছেদ বিষয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে বিআরটিএ। গত ১৬ জানুয়ারি যানবাহন মালিক সমিতিগুলোকে বিআরটিএর পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়। গত মে মাসে সরকারের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয়। তবে পরিবহন মালিকরা নিজ উদ্যোগে লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন উঠিয়ে নেয়নি। এ পরিস্থিতিতে বিআরটিএ ১ জুলাই থেকে অভিযানে নামার ঘোষণা দেয়। তবে পরিবহন মালিকদের চাপে পরে তা পিছিয়ে ২০ জুলাই করা হয়। এখনও পুরোনো যানবাহন বন্ধের উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।
পরিবহন প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শামসুল হক সমকালকে বলেন, গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বয়স নয়, তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রিকন্ডিশন গাড়ির মাধ্যমে বায়ুদূষণ হয় কিনা, গাড়ি কত কিলোমিটার চালানো হয়েছে, বিষয়গুলো বিজ্ঞানসম্মত পর্যালোচনা করতে হবে। স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না। কারণ বাস মালিকরা শুধু সুবিধা নিতে চান; অনুপযোগী গাড়ি সড়ক থেকে সরাতে চান না।
তিনি বলেন, ফিটনেসহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিআরটিএ অক্ষম প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাঠামো নেই। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। এগুলো সংস্কার করতে হবে। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন খাতটির মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় অরাজকতা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম সমকালকে বলেন, কম সুদে ঋণ পেলে কিছু ভালো গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে। অনেক মালিক আছেন, ব্যবসায় সুবিধা করতে পারেন না। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে গাড়ি ব্যবসায় লোকসান হয়। এখানে সরকারকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়। কারণ ভাড়াটা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। তবে পুরোনো বাস-ট্রাকের বদলে নতুন বাহন নামাতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলেছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো পরিপত্র জারি করেনি।
ফিটনেস পরীক্ষা করবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিআরটিএর অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টানতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। নাভানা, রহিমআফরোজসহ যেসব প্রতিষ্ঠানের বড় গ্যারেজ ও ফিটনেস পরীক্ষা করার যন্ত্রপাতি আছে, তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কারণ বিদেশে এসব কাজ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করে।
সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণে যারা
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতেন, তারা গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর পালিয়েছেন। সে সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ছিলেন মসিউর রহমান রাঙ্গা আর মহাসচিব ছিলেন খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের হাতে। তিনি সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘ সময় এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বাসদ নেতা ওসমান আলী। এই সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুখলেছুর রহমান, সহসভাপতি সাদিকুর রহমান হিরুও পলাতক।
এখন সব পরিবহন সমিতির নেতৃত্বে বদল এসেছে। এসব সমিতি যাদের কথায় চলছে, তাদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে রয়েছেন– বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী ও পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়কারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ। এসব নেতার নেতৃত্বেই পরিবহন খাতের শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেন।
এ ব্যাপারে পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়কারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে সমকাল। তাঁর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
পুরোনো গাড়ি বাড়াচ্ছে দূষণ
বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ ফিটনেসহীন ও লক্কড়ঝক্কড় মোটরযান। পরিবেশ অধিদপ্তরে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেস) প্রকল্পের ‘বাংলাদেশে বায়ুদূষণের উৎস: ইটভাটা ও যানবাহনের অবস্থা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ৮৪ শতাংশ বাস-মিনিবাস, ৬৯ শতাংশ ট্রাক, ৫৯ শতাংশ হালকা যান ও ৬০ শতাংশ মোটরসাইকেল নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি দূষণ করছে। এসব গাড়ির ধোঁয়া সবচেয়ে ক্ষতিকর শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, বয়স্ক মানুষ, শ্বাসকষ্টের রোগী ও যারা দীর্ঘক্ষণ সড়কের পাশে থাকেন তাদের জন্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্তত ১৫ শতাংশ ফিটনেসহীন যানবাহনের কারণে হয়। কালো ধোঁয়ার কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারীর অনাগত সন্তানের মস্তিষ্ক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, সময়ের আগে জন্ম এবং কম আইকিউ নিয়ে বেড়ে উঠার ঝুঁকি বাড়ে। নবজাতকের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও প্রকট হয়।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ঢাকায় ফিটনেস নেই এমন গাড়ির সংখ্যা অনেক। অথচ বিআরটিএ থেকে ফিটনেসহীন কোনো গাড়িই প্রত্যাখ্যাত হয়নি। কোনো না কোনোভাবে মালিকরা সনদ জোগাড় করে নিচ্ছেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৫ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলেন। কিন্তু পরিবহন মালিকদের চাপের মুখে সেটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সরকারের নরম নীতি, পরিবহন মালিকদের চাপ ও বিআরটিএর দুর্নীতি মিলে পুরোনো গাড়ি সরানোর উদ্যোগ বারবার ভেস্তে যাচ্ছে। এর ফলে ঢাকার আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে, নাগরিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
