ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জলবায়ু

তাপপ্রবাহ ‘ব্লব’-এর পুনরুত্থান

তাপপ্রবাহ ‘ব্লব’-এর পুনরুত্থান
×

স্যাটেলাইট থেকে তোলা চিত্রে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার তারতম্য - সংগৃহীত

 সুমন মজুমদার

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৯ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৯:০৮

ফিরে এসেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ‘ব্লব’। ইতোমধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে জাপান থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত পাঁচ হাজার মাইল বিস্তৃত এই সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। যার আঁচ পড়েছে বঙ্গোপসাগরেও। ২১ সেপ্টেম্বর গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টায় স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার তারতম্য রেকর্ড করা হয়। এতে দেখা যায়, জাপান থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্র অঞ্চলে ব্যাপক সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমার উপকূলে এই তাপপ্রবাহ খানিকটা হলেও বিদ্যমান। 

আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘ব্লব’ মানুষের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দ্বারা প্রভাবিত হয়। এর ফলে স্থলভাগের আবহাওয়া এবং সামুদ্রিক জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। সামুদ্রিক এই উষ্ণ জলপ্রবাহের আস্তরণটি প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর অংশে একটি বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। ২০১৩ সালে প্রথম এই ধরনের ‘ব্লব’ শনাক্ত করা হয়েছিল। সাধারণত সমুদ্রের পৃষ্ঠে বাতাসের গতি কমে গেলে বা বাতাস স্থির থাকলে সূর্য থেকে আসা তাপ সমুদ্রপৃষ্ঠে আটকে পড়ে। এতে পানির তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ‘ব্লব’-এর সৃষ্টি হয়। ২০১৩ সালের পর দীর্ঘদিন ‘ব্লব’ দেখা যায়নি। এ বছর আবার তা দেখা যাচ্ছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু লেইসিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ঘটনাটি এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা চতুর্থ বৃহত্তম উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘ব্লব’।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্লব স্থলভাগে আর্দ্রতা বাড়ায় এবং বায়ুমণ্ডলীয় নদীর মতো আবহাওয়ার ধরনকে প্রভাবিত করে, যা শীতকালে বৃষ্টি এবং তুষারপাত বৃদ্ধি করতে পারে। ‘ব্লব’-এর কারণে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এর ফলে মাছ, সামুদ্রিক পাখি এবং অন্যান্য প্রাণীর খাবার কমে যায়, প্রজনন ব্যাহত হয়। 

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে তাতে এখন থেকে আরও ঘন ঘন ‘ব্লব’ দেখা দেবে। এমনকি তা তীব্রও হতে পারে, যা পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য একটি গুরুতর হুমকি। এ বছর ‘ব্লব’-এর কারণে জাপান তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০৭ দশমিক ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
আবার প্রশান্ত মহাসাগরের অন্য প্রান্তে, এই সামুদ্রিক তাপ উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় শরৎকালের শুরুতে ব্যাপক উচ্চ আর্দ্রতা তৈরি করছে। এমনটা চলতে থাকলে শীতকালে সেখানে বৃষ্টি এবং পার্বত্যাঞ্চলে তুষারপাত বাড়তে পারে।

জানা গেছে, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পুরো অংশে গত আগস্ট মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। বর্তমানে সামুদ্রিক এই তাপপ্রবাহে পুরো উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা জড়িত, যা আবহাওয়ার মানচিত্রে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। 

লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়েন বলেন, যদি এই বিস্তৃত সমুদ্র অববাহিকা অঞ্চলে তাপপ্রবাহ চলতে থাকে, তবে এটি জেট স্ট্রিমের সঙ্গে সম্পর্কিত শীতকালীন ঝড়ের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ বাড়তে পারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। 

এর আগে উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ‘ব্লব’ আলাস্কার উপকূলে সামুদ্রিক পাখির ব্যাপক মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বিভিন্ন মাছের প্রজাতি এবং অন্যান্য প্রাণীও। আলাস্কা মেরিটাইম ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ রিফিউজের তত্ত্বাবধায়ক হিথার রেনার বলেন, কমন মুর নামে সামুদ্রিক পাখিগুলো ২০১৩ সালে সৃষ্ট সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের প্রভাব এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এই গ্রীষ্মেও আলাস্কার জলসীমায় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, সামুদ্রিক পাখি এবং ফোরেজ মাছের একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অসুস্থ ও মৃত পাখি সম্পর্কে মানুষের কাছ থেকে আমাদের কাছে কল-এর সংখ্যা বেড়েছে।

আরও পড়ুন

×