অবসরের দিনই শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পরিশোধের দাবি
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | ১৮:২৩
অবসরের দিনই শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা প্রদান করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমন্বয় পরিষদ’। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘চলমান শিক্ষাব্যবস্থার সংকট উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
পরিষদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে গভর্নিং বডি গঠন করা, শুধু শিক্ষকদের নিয়ে স্থায়ী শিক্ষা ও উন্নয়ন কমিশন গঠন করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র স্থাপন করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার জাতীয়করণ করা।
মতিঝিলের টি অ্যান্ড টি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নূর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও তেজগাঁও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমানা শাহীন শেফা, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাফেজ মো. আব্দুর রহিম, কবি লিলি হক প্রমুখ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বরকোটা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড- এই কথাটা আমরা সবাই বলি। স্বাধীনতার এই সময়ে এসে শিক্ষকদের মর্যাদা তলানিতে এসে পৌঁছেছে। শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তেমন ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। কারণ শিক্ষকদের মধ্যে অনৈক্য রয়েছে। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা শিক্ষকরা বিভক্ত হয়ে গেলে জাতিকে যা দেওয়ার দরকার, তা আমরা পারবো না।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর তাকে সংবর্ধনার মাধ্যমে তার অবসর ভাতার চেক তুলে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা হয় না। শিক্ষকদের বছরের পর বছর অবসরের টাকার জন্য ব্যানবেইসসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে হয়। এটা তো হওয়ার ছিল না। শিক্ষকদের উচিত অবসরের দুই-তিন বছর আগেই অবসরের পরবর্তীতে কী করবেন, তা ঠিক করা। কারণ অবসরের পর ওই শিক্ষকের দিকে কেউ তাকান না। তাই অবসরের পর তাদের যেন একটা বসার একটা জায়গা থাকে।
মূল প্রবন্ধে সাবেক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা তাদের বেতন থেকে কর্তন না করে প্রতিষ্ঠান শতভাগ কর্তন করে অবসরের দিনই তা প্রদান করতে হবে। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি গঠন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা নিগৃহীত এটা চিরাচরিত, ঐতিহাসিকভাবে সত্য। সারা পৃথিবীতে শিক্ষকদের সম্মান অত্যন্ত বেশি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে এদেশের শিক্ষকদের বেতন ও সম্মান কম। রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদরা শিক্ষকদের মর্যাদা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে উদ্যোগী না হলে যতই আন্দোলন করা হোক না কেন, তা নিশ্চিত করা যাবে না। তাই আগামীতে যারা সরকার গঠন করবেন বা রাজনীতি করবেন, তারা শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করবেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতিমালার কারণে শিক্ষার মানোন্নয়ন হয়নি। এ কারণে ব্যাঙের ছাতার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গজিয়েছে, কিন্তু শিক্ষার মানের কোনো উন্নয়ন হয়নি। একটা নীতিমালা আছে, তবে তা এই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। এই নীতিমালাকে রিভিউ করে যুগোপযোগী করতে হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে হবে।
রুমানা শাহীন শেফা বলেন, একজন শিক্ষক যখন শিক্ষকরা সারাজীবন শিক্ষাদান করে অবসরে যাওয়ার পর তার কোনো মূল্য এদেশে দেওয়া হয় না। কিন্তু বিদেশে শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়। এদেশে শিক্ষকরা অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধাগুলো পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। এক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষকরা যেন অবসরে যাওয়ার দিনই অবসরের সুবিধাগুলো পান, তা নিশ্চিত করতে হবে গভর্নিং বডিকেই।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ নূর হোসেন বলেন, শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে। কিন্তু আজ শিক্ষক ও শিক্ষা কোনোটিই বেঁচে নেই। এদেশকে বাঁচাতে হলে শিক্ষাকে বাঁচাতে হবে। গত ১৬ বছরে শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে। এ দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষাকে জাতীয়করণ করতে হবে। জাতীয়করণের আগ পর্যন্ত শতভাগ উৎসব ভাতা দিতে হবে, অবসরের সঙ্গে সঙ্গেই অবসর ভাতা প্রদান করতে হবে, নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিও করতে হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন করতে হবে।
- বিষয় :
- শিক্ষক
- বেসরকারি শিক্ষক
- এনটিআরসিএ
