ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা

দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার ৫০ শতাংশ

লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা আইনি দুর্বলতা, প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও জনসচেতনতার অভাব

দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার ৫০ শতাংশ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:৪১

দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার বর্তমানে ৫০ শতাংশ ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলেও আইনি দুর্বলতা, প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও জনসচেতনতার অভাব তা অর্জনে বড় বাধা হয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় প্রজ্ঞা আয়োজিত  ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে এসব তথ্য ও মতামত তুলে ধরা হয়। এতে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন। সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।

মাশিয়াত আবেদিন জানান, বিশ্বে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হারের বৈশ্বিক গড় বর্তমানে যথাক্রমে ৭৭ ও ৭৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যেই প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করেছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ সংস্কার করে হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুর নিবন্ধন নিশ্চিত করা যাবে।

জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, নিবন্ধনের দায়িত্ব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে দিলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধন বাস্তবায়ন সম্ভব। এতে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬ দশমিক ৯ অর্জনের পথও সুগম হবে।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর নজরুল ইসলাম বলেন, আইন সংস্কারের পাশাপাশি বাস্তবায়নে সচেতনতা, জনবল বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট সব খাতের সমন্বয় জরুরি। আলোচনায় উঠে আসে, জন্ম ও মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে ভুল সংশোধনের আবেদন বিনা ফিতে করার সুপারিশ এবং এই তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে বাধ্যতামূলক ‘ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস’ প্রস্তুতের প্রস্তাব।

ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য ও নীতিনির্ধারণী খাতের বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন

×