ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

১৫ সেনা কর্মকর্তা কারাগারে

জামিন শুনানি ২০ নভেম্বর

১৫ সেনা কর্মকর্তা কারাগারে
×

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনার তিন মামলায় গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম, খুন, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তিন মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। এ সময় তারা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। আদেশের পর সকাল ১০টার দিকে তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ প্রিজনভ্যানে সেনানিবাসে স্থাপিত সাব-জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। 

এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ১৭ কর্মকর্তাকে পলাতক দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি ১৫ সেনা কর্মকর্তার জামিন চেয়ে দাখিল করা আবেদনগুলোর শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। 

১৫ সেনা কর্মকর্তা মধ্যে আছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, র‍্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (বর্তমানে অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল কে এম আজাদ, র‍্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। এই ১০ জন র‍্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে মামলার আসামি। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে মামলার তিন আসামি হলেন– ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিক ও মেজর জেনারেল শেখ মো. সারওয়ার হোসেন। অন্য দুজন বিজিবির সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর রাফাত বিন আলম মুন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রীতে ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলার আসামি। 

এই তিন মামলার ২৮ আসামির মধ্যে গতকাল সকাল সোয়া ৭টায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ প্রিজনভ্যানে করে পুরোনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। 
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই তিন মামলায় শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন বাহিনীর ২৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। ওই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পাশাপাশি পরোয়ানা বাস্তবায়ন করে ২২ অক্টোবর তাদের হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ৩২ আসামির ২৫ জনই সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ১৫ জন সেনা হেফাজতে আছেন বলে ১১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে জানায় সেনাবাহিনী। এ পরিস্থিতিতে ১৩ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে অস্থায়ী কারাগার ঘোষণা করে সরকার। 

ট্রাইব্যুনালে আড়াই ঘণ্টা
গতকাল ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শিশু একাডেমি সংলগ্ন গেট দিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ রঙের বিশেষ প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের একে একে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে যান। সবুজ সেই বাসে লেখা বাংলাদেশ জেল, প্রিজনভ্যান। এ সময় সেনা কর্মকর্তাদের সাধারণ পোশাকে দেখা যায়। কারও কারেও মুখে ছিল মাস্ক।
সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল বসেন। এ সময় প্রথমে ১০ সেনা কর্মকর্তাকে এজলাসে বসানো হয়। চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম তাদের হাজিরার বিষয়টি ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করেন। এরপর পলাতকদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা চান। পাশাপাশি ১০ সেনা কর্মকর্তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করার বিষয়ে বলেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল উপস্থিত ১০ কর্মকর্তার নাম ধরে একে একে ডাকেন, তারা দাঁড়িয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। পরের দফায় তিন সেনা কর্মকর্তা এবং শেষ দফায় দুই কর্মকর্তা হাজির হন। এভাবেই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনাল। দুই মামলায় ১৫ কর্মকর্তার জামিন আবেদনের শুনানি আগামী ২০ নভেম্বর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুই কর্মকর্তার জামিন শুনানি ৫ নভেম্বর হবে বলে দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন তিনটি আবেদন করা হয়। সেগুলো হলো, তাদের জামিন আবেদন, সেনানিবাসে সাবজেলে রাখা ও আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ বিষয়ে আবেদন। আদেশের পর তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।  অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. তানভীর হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘আদালত থেকে এই কর্মকর্তাদের সেনানিবাসের সাব-জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তারা থাকবেন।’    

যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর
ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০ নভেম্বর তাদের জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে আসামিরা কোন কারাগারে থাকবেন। তাদের কাস্টডিতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  কারা কর্তৃপক্ষ তাদের কোথায় রাখবেন, অর্থাৎ কোন জেলে রাখবেন কোন সাব-জেলে রাখবেন, ঢাকায় রাখবেন না চট্টগ্রামে পাঠাবেন বা অন্য কোথাও রাখবেন এই অথরিটি কারা কর্তৃপক্ষের অর্থাৎ সরকারের।’ 

তিনি বলেন, তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে সেনাবাহিনী পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। সেনাবাহিনীসহ এই বিচার প্রক্রিয়াকে সূচারুভাবে পরিচালনার বিষয়ে যারা সহায়তা করেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। তাজুল ইসলাম বলেন, আজ যাদের উপস্থিত করা হয়েছিল, তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে, সোপর্দ করার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন কাজ করেছে, তেমনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে যাদের মনে করা হয়, সেই সেনাবাহিনী এই আদালতের প্রক্রিয়াকে সাহায্য করেছে। তারা ঘোষণা দিয়েছিল, বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সব সমর্থন থাকবে। তারা সেই সমর্থন (প্রসিকিউশনকে) দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার ব্যাপারে তারা (সেনাবাহিনী) সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। 

সেনা কর্মকর্তাদের আইনজীবী যা বললেন
আদেশের পর সেনা কর্মকর্তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই সেনা কর্মকর্তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা নির্দোষ এবং সেটি আদালতে প্রমাণ হবে। যারা অপরাধ করেছে তারা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘সাবেক ও বর্তমান এই সেনা কর্মকর্তারা কখনও গ্রেপ্তার ছিলেন না। তারা সেনাবাহিনীতে অ্যাটাসড ছিলেন। তারা শুরু থেকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই তারা ট্রায়াল ফেস করতে চান। তারা অপরাধ করেননি।’ 

ব্যারিস্টার সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল আমাদের ওকালতনামা স্বাক্ষর করার অনুমতি দিয়েছেন। আমরা তিনটি আবেদন করেছি। আবেদনগুলোর ওপর পরবর্তী তারিখে শুনানি হবে। এর মধ্যে একটি জামিনের আবেদন রয়েছে। এ ছাড়া প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন  ও তাদের যেন সাব-জেলে রাখা হয় সেই আবেদন করেছি। তাদের সেনানিবাসে যে সাব-জেল (উপকারাগার) ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, টেকনিক্যাল কারণে প্রসিকিউশন তাদের বলেছে গ্রেপ্তার। তবে আমরা বলি আত্মসমর্পণ। কারণ তারা স্বেচ্ছায় এখানে এসেছেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য তাদের একটা গাড়িতে আনা হয়েছে। নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সুবিধার কারণে এই সুবিধাটা ব্যবহার করা হয়েছে। তারা প্রকৃতপক্ষে আত্মসমর্পণ করেছেন।

আইন উপদেষ্টা যা বললেন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সেনাসদস্যদের যেভাবে আনা হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সেনা প্রশাসন বা সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সেনাবাহিনীর প্রধান যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, এটা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। তারা আইনের শাসনের প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়েছেন, সেটা আমরা খুব পজিটিভলি দেখছি।’ 

নিরাপত্তা জোরদার
সেনা কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির করা উপলক্ষে ভোর সাড়ে ৫টা থেকে রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন, পল্টনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়। রাখা হয় বিশেষ সতর্ক অবস্থান ও টহল। পুরোনো হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল ভোর থেকেই। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, এপিবিএনের বিপুল সংখ্যক সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সবাইকে বিশেষভাবে তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হবে কিনা, এ নিয়ে কয়েকদিন থেকেই নানা ধরনের গুঞ্জন ছিল। 

যা বললেন আবদুল্লাহিল আমান আযমী
সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, ‘সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা মানে নিজেদের ক্ষতি করা। সব অপরাধীকে গালি দেন, দয়া করে সেনাবাহিনীকে গালি দেবেন না।’ সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, সংহতি ও ঐক্যের প্রতীক। গতকাল  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। 

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে আযমী বলেন, ‘ভারত আমাদের সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। জনগণ সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হলে অসাধু ও দুর্নীতিপরায়ণ কিছু কর্মকর্তার জন্য দেশের ক্ষতি হবে, আমার-আপনার ক্ষতি হবে।’ 

এদিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে কিছু প্রস্তাবনার কথা তুলে ধরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সংগঠন ইউনাইটেড ফর দ্য ভিকটিমস অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস (ইউভিইডি)। সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গে গুমের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমীও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা গুম হয়েছিলাম, আমাদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চলেছে, আজ আমরা কিছুটা হলেও তৃপ্তি পাচ্ছি।’ এ সময় তিনি গ্রেপ্তার সেনাসদস্যদের সুবিচার দাবি করে বলেন, ‘আদালত সব বক্তব্য শুনে যেন সুবিচার করেন, সেটাই আমি চাইব।’ 

সাংবাদিক প্রবেশ করতে দেওয়ায় পুলিশ কর্মকর্তাকে ধমকালেন ডিআইজি 
গতকাল সকালে সাংবাদিকদের ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করতে দেওয়ায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশালীন আচরণ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এম নজরুল ইসলাম। সকাল সোয়া ৭টার দিকে ট্রাইব্যুনালের প্রবেশমুখে এ ঘটনা ঘটে। 

জানতে চাইলে প্রবেশমুখে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে সেনা কর্মকর্তাদের গাড়ি ভেতরে প্রবেশের পর সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করতে চান। আমরা বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাহমুদুল হাসানের কাছে জানতে চাই। কিছুক্ষণ পর তিনি রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলে আমাকে বলেন সাংবাদিকরা ভেতরে যেতে পারবে। তখন আমি তাদের যেতে দিই।’ 
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমি কেন সাংবাদিকদের ভেতরে যেতে দিলাম সে জন্য ডিআইজি নজরুল স্যার জানতে চান এবং আমার ছবি তোলেন। আমি রেজিস্ট্রারের কথা বললে তিনি আমাকে নিয়ে সেখানেও যান। তখন রেজিস্ট্রার বলেন, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান অনুমতি দিয়েছেন।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এস এম রুহুল ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি।  

 

আরও পড়ুন

×