কেআইবিতে কড়া নিরাপত্তা, আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
ভোট চায় না একাংশ, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি এনসিপির
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | ২২:৫৭ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৫:২৩
১৬ বছর পর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) নির্বাচন ঘিরে বিএনপিপন্থি কৃষিবিদদের এক পক্ষে উত্তেজনা চলছে। রাজধানীর ফার্মগেটে কেআইবির প্রশাসনিক ভবনে বিএনপিপন্থি কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) একাংশের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর ভবনটিতে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে এ্যাবের কিছু নেতা ৬০-৭০ জন কর্মী নিয়ে কেআইবিতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। তারা কেআইবির প্রশাসক লে. কর্নেল (অব.) মো. আব্দুর রব খানকে তাঁর দপ্তরে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং পদত্যাগের জন্য হুমকি দেন। হামলাকারীরা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের নামফলক, সিসি ক্যামেরা ও অফিস সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন এবং নিচতলার নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যান। সেদিন রাতেই কেআইবি কর্তৃপক্ষ তেজগাঁও থানায় মামলা করে। মামলায় এ্যাবের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কায়সার, সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, কৃষিবিদ সবুর, আশরাফ, টিপু, এমদাদ হোসেন ও শাহাদাত হোসেন চঞ্চলসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে কেআইবিতে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের সামনেই পুলিশের টহল। ভেতরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তারপরও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারীরা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছেন। কিছু কর্মচারীকে অফিসে না আসার ভয় দেখানো হচ্ছে। তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। মামলার সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক লুৎফুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কেআইবির ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কথা জানায়। তবে বিএনপিপন্থি সংগঠন এ্যাবের একাংশ এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।
সোমবারের হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার বলেন, ‘আমরা জাতীয় নির্বাচন আগে কেআইবির ভোট চাই না। গঠিত নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা পক্ষপাতদুষ্ট।’ তিনি প্রশাসক আব্দুর রব খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করেন।
এদিকে মঙ্গলবার হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কৃষিবিদ উইং। সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম ও যুগ্ম সমন্বয়কারী কৃষিবিদ তৌহিদ আহমেদ আশিক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, কেআইবি কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র নয়। কৃষিবিদ সমাজের ঐক্য ও মর্যাদা নষ্টের এ ধরনের ঘটনা নিন্দনীয়। এনসিপি কৃষিবিদ উইং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, কেআইবির নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।
সমাজকল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, গত ৯ মাসে কেআইবিতে নানা সংস্কারকাজ হয়েছে। দুর্বৃত্তায়ন ও অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে। যখনই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে তখনই একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। কেআইবিতে যারাই হামলা চালিয়েছে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।
