ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রাথমিকে সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ বাতিল সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত: উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী

পক্ষকালব্যাপী সাংস্কৃতিক সমাবেশ, মানববন্ধন, গানের মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রাথমিকে সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ বাতিল সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত: উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ১৭:২৪ | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ১৭:২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়েছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। তাদের দাবি, প্রাথমিকে সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করা সরকারের একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। দেশকে বিপথে নিয়ে যাওয়া হবে এর মাধ্যমে। এ সময় শিশুদের সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন করে গড়ে তোলার চক্রান্ত রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশজুড়ে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
  
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খা হলে এই সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো  হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন মাঞ্জার হোসেন, কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, সুজিত মোস্তফা, মহাদেব ঘোষ, তুষার চন্দ্র ও ড. মকবুল হোসেন প্রমুখ।

মাহমুদ সেলিম বলেন, আমরা জানি দেশের কোন গোষ্ঠী ধর্মের নামে মিথ্যাচার ও ভণ্ডামি করছে। তারা ধর্মকে সংস্কৃতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে চায়। আমরা তা হতে দেব না। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অমিত রঞ্জন দে। 

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত সুদূরপ্রসারী চক্রান্তমূলক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ। আমরা যতদূর জানতে পেরেছি আগামীতে এই একই গোষ্ঠী চারুকলা, নৃত্যকলা, সংগীত কলা পর্যায়ক্রমে পাঠ্যক্রম হতে বাদ দিবেন। উদীচী মনে করে এসব সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী এবং সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতা প্রসূত। আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বক্তারা বলেন, একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী তাদের নিজেদের পছন্দ অপছন্দ সবার ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছে। এটা বাংলাদেশে সম্ভব না। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। এভাবে সংস্কৃতি বিকাশের পথ বন্ধ করে দেওয়া যায় না। আমরা রবীন্দ্র সংগীত গাইবো না, নজরুল লালন গাইবো না এটা কি হয়? আজ আমাদের বিভিন্ন ঋতু ভিত্তিক অনুষ্ঠান করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এসব আমরা মেনে নিতে পারি না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উদীচী সভাপতি বলেন, স্কুলে ধর্ম শিক্ষা ও আরবি শিক্ষা থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির গোষ্ঠী বলছে ধর্মের শিক্ষক নেই। অথচ স্কুলে নেই গানের শিক্ষক ও শরীরচর্চার শিক্ষক। ধর্মান্ধ গোষ্ঠী উল্টো প্রচার করছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই সময়ের মধ্যে অপরাপর সমমনা প্রগতিশীল সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে উদীচীর সব জেলা ও শাখা সংসদের উদ্যোগে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ, মানববন্ধন, গানের মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান, গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন, বিশিষ্টজনদের বিবৃতি প্রদান ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করা হবে।

আরও পড়ুন

×