ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চাইলে দলীয় স্বার্থ বাদ দিতে হবে

সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চাইলে দলীয় স্বার্থ বাদ দিতে হবে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সংস্কারের নামে অনৈক্য নয়। বরং ঐক্য বজায় রাখার জন্যই সংস্কার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরই আস্থা রাখতে হবে। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন করতে চাইলে দলীয় স্বার্থ পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬: জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সংলাপে এ অভিমত দেন বিশিষ্টজন। ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এ সংলাপ আয়োজন করে।

এতে নিবন্ধ উপস্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, মতভেদ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, নভেম্বর অত্যন্ত সংবেদনশীল। জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ও নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। সব দলকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জুলাই সনদের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া বিষয়গুলো জনগণের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য, তা বিবেচনা করতে হবে। রাষ্ট্র মেরামতের জন্য যে সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, সেটির মূল উদ্যোগ বিএনপি ৩১ দফার মাধ্যমে নিয়েছে।
জাতির উদ্দেশে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া ভাষণের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) বক্তব্য নিয়েও মত-ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন যে সংসদ গঠিত হবে, তারাই সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অনেক ধনী দেশ আছে। কিন্তু তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন আবু সাঈদ সৃষ্টি করতে পারবে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ভিন্ন ভিন্ন আদর্শ এবং মতের মানুষ অংশ নিয়েছিল। আমাদের সবার একটিই পরিচয় ছিল, আমরা বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করতে চেয়েছি।
কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার বলেন, যারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচনের দাবি করছেন, তারা গৃহযুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছেন। কারণ সংবিধানে লেখা আছে, নির্বাচন হবে পাঁচ বছর পরে; অর্থাৎ ২০২৯ সালে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ্ বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌম রক্ষা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমাদের মধ্যে দৃঢ় ঐক্য হওয়া উচিত।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে ধারণ করতে হবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ কী চেয়েছে? অনেক আশা নিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছিল। এবার যদি ব্যর্থ হই, এই মানুষদের আশাহত করি, ভবিষ্যতে সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো এবং নির্বাচনের ওপরই আমাদের ভরসা করতে হবে। সংস্কারের নামে অনৈক্য নয়। বরং ঐক্য বজায় রাখার জন্যই সংস্কার করতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে একক দল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। সবাই মিলে হয়েছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য নিজের ক্ষমতা ও সুবিধাকে মাথায় রেখে আমরা মতামত দিই। এগুলো যদি আমরা বিপদের কথা চিন্তা করে দিতাম, তাহলে সহজেই ঐক্যে পৌঁছাতে পারতাম।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সংসদ হবে, তা ভাইব্রেন্ট হতে হবে। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা যখন বলি আন্দোলন ম্যান্ডেট দিয়েছে, এটা বললে কিন্তু জনগণ বিভ্রান্ত হয়।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন করতে চান, দলীয় স্বার্থ পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ফজলে এলাহী আকবরের সভাপতিত্বে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য মামুন আহমেদের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত প্রমুখ।
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে আপস নয়
গতকাল সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিএনপি কখনও আপস করবে না। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাসাস।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদ সোহরাব।

আরও পড়ুন

×