ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শ্রম আইনের গেজেট প্রকাশ

২০ শ্রমিকের সম্মতিতেই ট্রেড ইউনিয়ন

অনিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন চর্চায় অর্থদণ্ড

২০ শ্রমিকের সম্মতিতেই ট্রেড ইউনিয়ন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্পকারখানার ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২০ শ্রমিকের সম্মতির শর্ত রেখে গত সোমবার সংশোধিত শ্রম আইন অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে সরকার। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই দিন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, অধ্যাদেশটি আন্তর্জাতিক মানের। 

এদিকে, ২০ শ্রমিক মিলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে আপত্তি ছিল মালিকপক্ষের। শিল্পকারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে– এ শঙ্কায় তাদের পক্ষ থেকে অন্তত ১০০ শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব ছিল। এতদিন ২০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতিতে কোনো কারখানা কিংবা প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যেত। 

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল থেকে ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা অবারিত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিবেচনায় শ্রমিকের সংগঠিত হওয়া এবং সম্মিলিত দরকষাকষির ক্ষেত্রে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা সহজ করার বিষয়ে শ্রমসংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পর্ষদ (টিসিসি) গঠনের সুপারিশ করা হয়। 
জানতে চাইলে কমিশনের প্রধান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন সমকালকে বলেন, শ্রম আইন সংশোধনে ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়টি সহজ এবং গ্রহণযোগ্য সুরাহার জন্য তারা টিসিসি গঠনের সুপারিশ করেছেন। তবে আনুপাতিক হারের কথা বলেননি তারা। 

জারি করা অধ্যাদেশে দেখা যায়, ন্যূনতম ২০ জনের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়নের জন্য আবেদনের কথা বলা হলেও গেজেটে শ্রমিকের সংখ্যা অনুপাতে একটি হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০০ জন পর্যন্ত হলে ন্যূনতম ২০ জনের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের আবেদন করা যাবে। এভাবে ৩০১ থেকে ৫০০ শ্রমিক রয়েছে– এমন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৪০ জন, ৫০১ থেকে এক হাজার ৫০০ শ্রমিকের প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন, এক হাজার ৫০১ থেকে তিন হাজার শ্রমিকের কারখানায় ৩০০ জন এবং তিন হাজার এক থেকে তার বেশি শ্রমিক থাকলে ৪০০ জনের সম্মতি লাগবে। একটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচটির বেশি ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে না, এতদিন সর্বোচ্চ তিনটি করা যেত। 

ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়াও সংশোধিত শ্রম আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার সুযোগ বাদ দেওয়া। ভবিষ্য তহবিল গঠন, মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো, বেআইনি ধর্মঘটে দণ্ড ইত্যাদি।  সংশোধনীতে  শ্রমিকের সংজ্ঞায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। 
কালো তালিকাভুক্তি প্রসঙ্গে অধ্যাদেশে বলা হয়, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা যাবে না। এতদিন চাকরিবিধি লঙ্ঘন করলে শ্রমিককে তালিকাভুক্ত করা যেত। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তথ্য ভান্ডারে এ তালিকা সব কারকাখানা কর্তৃপক্ষ দেখতে পেতেন। এতে চাকরিচ্যুত এবং কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকরা অন্য কারখানায় কাজের সুযোগ পেতেন না। এতদিন শ্রম আইনে শ্রমিকদের সুবিধার ভবিষ্য তহবিল গঠনের কথা বলা থাকলেও তা বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে এবার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ১০০ স্থায়ী শ্রমিক থাকলেই মালিকপক্ষকে শ্রমিকের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করতে হবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রগতিতে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে ভবিষ্য তহবিল করা থেকে অব্যাহতি পাবে মালিকপক্ষ।  

সংশোধনের অনুরোধ করবেন উদ্যোক্তারা
সংশোধিত শ্রম আইনের বিষয়ে আপত্তি আছে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে  পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এবং বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিটিএমএ নেতারা বৈঠকে বসেন। আইনটি শিল্পের জন্য নতুন করে সংকট তৈরি করবে বলে মনে করেন তারা। তবে অধ্যাদেশের গেজেট জারি হওয়ার পর এখন কী করা যেতে পারে– এ বিষয়ে দ্বিধায় আছেন তারা। 

জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সমকালকে বলেন,  ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন ও ভবিষ্য তহবিল গঠনের বিধান রাখাসহ এরকম আরও বেশ কিছু  বিধানের বিষয়ে আপত্তি রয়েছে তাদের। এসব বিধান শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে– যার পরিণামে উৎপাদন ব্যাহত হবে, রপ্তানি কমবে। এই জরুরি বিষয়গুলো সরকারকে জানানো হবে।  শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আবারও বসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি। 

আরও পড়ুন

×