ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা নিয়ে হাইকোর্টের রায় ৪ ডিসেম্বর

নির্বাচিত সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিতে পারে, অন্তর্বর্তী সরকারও তা পারে: অ্যাটর্নি জেনারেল  

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা নিয়ে হাইকোর্টের রায় ৪ ডিসেম্বর
×

হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৫:০৩

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ৪ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার  রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

শুনানির পর নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচিত সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিতে পারে, অন্তর্বর্তী সরকারও তা পারে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

অ্যাটর্নি জেনারেল যা বললেন
শুনানির পর নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিট আবেদনকারী পক্ষের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে পিপিপি আইনের ৭ ধারার অধীনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ থাকতে হবে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ নেই, এ কারণে এনসিটির ক্ষেত্রে এ সরকার কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। আমরা বলেছি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ যে কাজ করতে পারেন, সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা তা করতে পারেন।’

তিনি বলেন, এনসিটি নিয়ে একটি কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা চলছে। সেটি নিয়ে জনস্বার্থের একটি মামলা করে জাতির সামনে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দর নাকি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা আদালতকে বলেছি, কয়েকটি কারণে রিট আবেদনটি খারিজ হতে পারে। এর আগে এই আদালতই অন্য একটি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া নিয়ে রিট খারিজ করেছিলেন। ফলে এই রিটের ক্ষেত্রে আদালত দ্বৈত নীতি নিতে পারেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এনসিটি নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। সুপ্রিম কোর্টের অনেক রায় আছে, অপরিণত পর্যায়ে কোনো জুডিশিয়াল রিভিউ এন্টারটেইন করার সুযোগ নেই। বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া হচ্ছে– এমন প্রশ্নের জবাবে আমরা বলেছি, আইন আমাকে সেই কর্তৃত্ব দিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন আইনের বৃত্তের মধ্যে আছি, যা করছি সংবিধান-আইনের মধ্যে থেকে করছি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতারা চান, নির্বাচিত সরকার এসে বন্দরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা তাদের বক্তব্য। আমরা বলেছি, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিতে পারে, অন্তর্বর্তী সরকারও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন রিটটি করেন। রিটে নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়।

আরও পড়ুন

×