কাঁচামাল উৎপাদনে স্থবিরতা বড় ঝুঁকিতে ওষুধ শিল্প
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের আগে ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) উৎপাদনে চলমান স্থবিরতা দূর করা না গেলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের ওষুধ শিল্প। শিল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এপিআই উৎপাদনে নীতি-সহায়তার ঘাটতি, দীর্ঘ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং দাম সমন্বয়ের জটিলতায় প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, চীন ও ভারত এপিআই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, ভর্তুকি ও শক্তিশালী গবেষণা কাঠামো তৈরি করেছে। আমাদেরও ঠিক সে ধরনের নীতি নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ডলার মূল্যবৃদ্ধি ও কাঁচামালের দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও দেড় বছরের বেশি সময় নতুন দাম অনুমোদন হয়নি। দাম বাড়াতে চাইলে মামলা হয়।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আশরাফ হোসেন বলেন, একটি ওষুধ কোম্পানির ব্রেক-ইভেনে যেতে সাধারণত পাঁচ বছর লাগে। নকল ওষুধের অভিযোগ অনেকে করেন; কিন্তু প্রমাণ দেখাতে পারেন না।
স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান বলেন, জটিল লাইসেন্সিং ব্যবস্থার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যাচ্ছে। নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করে তিন বছর মেয়াদি করার চেষ্টা চলছে। তবে মানের বিষয়ে কোনো ছাড় নয়।
- বিষয় :
- ঔষধশিল্প
