ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মদসহ তিনজন আটক, মামলায় অভিযোগ মারামারির

মদসহ তিনজন আটক, মামলায় অভিযোগ মারামারির
×

ছবি: গুগল ম্যাপ

বকুল আহমেদ

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪২ | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার তালতলা তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ১২ বোতল মদসহ তিনজনকে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেনি। অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে মারামারির অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয় তাদের। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় মামলায় ওই দিনই জামিনে মুক্তি পান তারা। পুলিশের এমন কাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

গত ২০ নভেম্বর গভীর রাতে ওই তিনজনকে পাকুণ্ডা সেতুতে সিএনজিচালিত অটোরকিশায় তল্লাশি চালিয়ে আটক করা হয়। পরদিন তাদের নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্তরা হলেন–সাইদুর রহমান সাধু, শুভ দেবনাথ ও শামীম। তাদের মধ্যে সাধু অটোরকিশার চালক।

দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা হলে ওই দিন তাদের জামিন পাওয়া কষ্টসাধ্য হতো। সাধারণত এ ধরনের মামলায় এত দ্রুত জামিন পাওয়ার নজির কম। মামলা হলে অভিযুক্তদের পরে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। সোনারগাঁয়ের ঘটনায়ও যথাযথ ধারা অনুযায়ী মামলা হলে অভিযুক্তরা এত দ্রুত ছাড়া পেতেন না। 

অভিযোগ উঠেছে, সঠিক ধারায় মামলা না করার পেছনে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। রাস্তায় তল্লাশি থেকে শুরু করে পরে অভিযুক্তদের তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন পুলিশ সদস্যের নাম জানা গেছে। তারা হলেন–তালতলা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক আব্দুল হক, এসআই মোয়াজ্জেম ও এএসআই নাসির উদ্দিন। 

সূত্র জানায়, ওই রাতে তালতলা তদন্তকেন্দ্রের এএসআই নাসির উদ্দিন দুজন কনস্টেবল নিয়ে ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত ২টার দিকে পাকুণ্ডা সেতুতে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল এই টহল দল। এ সময় একটি অটোরিকশা থামানো হয়। এতে চালক সাইদুর রহমান সাধু ছাড়াও যাত্রী হিসেবে ছিলেন শুভ দেবনাথ ও শামীম। তাদের কাছে ১২ বোতল মদ পাওয়া যায়। মদ, অটোরিকশাসহ তিনজনকে তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনজনকে রাখা হয় হাজতে। 

এএসআই নাসির বিষয়টি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল হক এবং এসআই মোয়াজ্জেমকে জানান। পরদিন ২১ নভেম্বর তিনজনকে সোনারগাঁ থানায় নিয়ে যান এএসআই নাসির। মাদকসংক্রান্ত মামলা না দিয়ে সিআরপিসির ১৫১ ধারায় অভিযোগ এনে আসামিদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। মদ তদন্তকেন্দ্রে রেখে দেওয়া হয়। ওইদিন বিকেলে আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বের হন। রাতেই তদন্তকেন্দ্রে গিয়ে চালক সাধু তাঁর অটোরিকশা পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যান। শুভ দেবনাথের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাহদী এলাকায়, শামীম ও সাধুর বাড়ি সোনারগাঁয়ের ললাটি এলাকায়।

ভাড়া করা যে অটোরিকশায় সেদিন পুলিশ টহল দিচ্ছিল সেটির চালক মো. জামাল গত মঙ্গলবার সমকালকে বলেন, ২০ নভেম্বর রাতে তিনি পুলিশের ডিউটি করছিলেন। তাঁর সামনেই পুলিশ সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা থামায়। তাতে মদ পাওয়া যায়। এরপরই তিনজনকে আটক করে পুলিশ। মদসহ তিনজনকে তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই অটোরিকশার চালক সাধু জামিনে বেরিয়ে আবার অটোরিকশা চালাচ্ছেন। মদসহ তিনজনকে আটকের বিষয় আরও বিভিন্ন সূত্র সমকালকে নিশ্চিত করেছে। 

তালতলা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আব্দুল হক সমকালকে বলেন, ‘এএসআই নাসির সেদিন রাতে তিনজনকে আটক করে তদন্তকেন্দ্রে এনেছিলেন। সিআরপিসির ১৫১ ধারায় তিনি তাদের আদালতে চালান করেছিলেন। আসামিদের কাছে মদ পাওয়া গিয়েছিল কিনা আমি জানি না। সব বিষয় তো আমি খোঁজ রাখতে পারি না।’

এএসআই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে মারামারি হয়েছে এই অভিযোগে ১৫১ ধারায় চালান দিয়েছিলাম।’ মদের বোতল কী করলেন এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব কী কন ভাই। এগুলো কয়েন না। একদিন সময় করে আসেন বসে চা খাই। বসে কথা বলি।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনারগাঁ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হাসান বলেন, ‘মদ পেলে তো মাদক মামলা নেওয়ার কথা। বিষয়টি আমার জানা নেই।’ তিন আসামিকে থানায় পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘যদি কেউ ধর্তব্য অপরাধ সন্দেহ করে, কিংবা আসামি দৌড় দিয়েছে বা নাম প্রকাশ করেনি এমন কিছু থাকলে তখন আমরা ১৫১ ধারায় চালান দেই।’

আরও পড়ুন

×