ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ফজলুর রহমান: চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ফজলুর রহমান: চিফ প্রসিকিউটর
×

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২০:১৮

আদালত অবমাননার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে তলবের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান।

বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিরুপ মন্তব্যের কারণে আইনজীবী ফজলুর রহমানকে তলব করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৮ ডিসেম্বর তাঁকে একাডেমিক, বার কাউন্সিল সনদসহ আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়।

ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ফজলুর রহমান আদালতের কাছে ‘আনকন্ডিশনাল অ্যাপোলজি’ (নিঃশর্ত ক্ষমা) প্রার্থনা করেছেন। তিনি একটা আবেদন জমা দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, যা কিছু তিনি (ফজলুর রহমান) বলেছেন, সেটা ভুলে বলেছেন এবং তিনি আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে র‍্যাবের টিএফআই সেলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের যে বিচার চলছে সেটি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। 

তিনি বলেন, র‍্যাবের যেসব কর্মকর্তাকে এখানে আসামি করা হয়েছে তাদের ভার্চুয়ালি শুনানির সুযোগ দিতে একটি আবেদন করেছিলেন একজন আইনজীবী। কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই বিচারকে মুখোমুখি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যা এই শুনানির সময় আমরা লক্ষ্য করেছি।

তাজুল ইসলাম বলেন, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছেন যে এই বিচার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। আমরাও সুস্পষ্টভাবে বলেছি, এটি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচার নয়। কারণ, সামরিক শৃঙ্খলার বাইরে থাকা অবস্থায় আসামিরা এসব মারাত্মক অপরাধ করেছেন। তখন তারা র‍্যাবে ছিলেন। এসব অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলা হয়। সুতরাং তাদের পক্ষে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রার্থনা খারিজ করেছেন আদালত।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকই সমান। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গুরুতর। তাই সবাইকে সমান সুবিধা দেওয়া হবে। বিচারের সাজাপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা নিরাপরাধ বিবেচিত হবেন। কিন্তু আসামি হিসেবে অন্যরা যে ধরনের সুবিধা ভোগ করেন, এর বাইরে নতুন কিছু পাবেন না তারা।

আরও পড়ুন

×