অনলাইনে হয়রানি
বাদ যাচ্ছেন না নির্বাচনের সম্ভাব্য নারী প্রার্থীরাও
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাইবার হয়রানির কারণে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কমছে। অনলাইনে হেনস্তার শিকার হয়ে অনেক সমাজ-সচেতন নারী রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। দেশের প্রতিষ্ঠিত নারীরাও সাইবার বুলিংয়ে টিকতে পারছেন না। আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য নারী প্রার্থীও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ডা. মাহমুদা মিতু জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক। তিনি বরিশাল থেকে নির্বাচন করার কথা। অনলাইনে হয়রানির কারণে তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
তিনি সমকালকে বলেন, দুই-তিন বছর আগে তিনি শুধু চিকিৎসক ছিলেন। তখন টিকটক ও ফেসবুকে তাঁর হাজারো ফলোয়ার ছিল। চিকিৎসা বা সামাজিক অসংগতি নিয়ে পোস্ট করতেন, তখন বাজে মন্তব্য তেমন পেতেন না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর পর থেকে আন্দোলনের সহযোদ্ধারাই নানাভাবে বুলিং শুরু করেন।
তিনি জানান, নেতাদের নিয়ে আক্রমণের লক্ষ্য দুর্নীতি। আর নেত্রীদের নিয়ে আক্রমণের লক্ষ্য চরিত্র। বিশেষ করে সম্পাদিত ছবি ফেসবুকে ছড়ানো হয়।
মিতু বলেন, সাইবার জগতে নারীদের এই বুলিংয়ে শিক্ষিত সমাজের অংশগ্রহণ অবাক করার মতো। তাঁর চিকিৎসক সহকর্মীরাও বাজে মন্তব্য করছেন। এনসিপির নারী নেত্রী ডা. তাসনীম জারা, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুমও অনলাইনে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও (ডাকসু) নারী প্রার্থীরা সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ করেছিলেন।
সাইবার বুলিং শুধু এনসিপির নেত্রীদের করা হচ্ছে, এমন নয়। অনলাইনে হয়রানির ক্ষেত্রে নারীদের দলীয় পরিচয় কোনো বাধা নয়। বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলি বা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কিংবা বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী অথবা জামায়াতের কোনো নারী নেত্রী, কেউ বাদ পড়ছেন না। সবাইকে নানা রকম ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। চরিত্র নিয়ে চালানো হচ্ছে নেতিবাচক প্রচার।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, সাইবার বুলিংয়ের শিকার মূলত নারীরা। যেসব নারী নিজেদের বক্তব্য নিয়ে অনলাইনে সরব হন, তাদের দমাতে এ হয়রানি করা হয়। এই হয়রানি এতটা ভয়ংকর, অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন।
লেখক ও নারী অধিকার কর্মী ফেরদৌস আর রুমী বলেন, সমাজ নারীদের সবসময় কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখে। নারীর পোশাক, চালচলন– সব কিছুতে সমাজ মতামত চাপিয়ে দিতে চায়। সেই নারী যদি রাজনীতি করতে চায়, তাহলে আক্রমণ হয় আরও ভয়ানক। তিনি বলেন, আক্রমণকারীরা সমাজের অন্য নারীর প্রতি একটি বার্তা দেয়, তা হলো নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গেলেই শাস্তি।
- বিষয় :
- হয়রানি
