ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সিপিডির আলোচনা সভায় বক্তারা

নীতিমালার মাধ্যমে চলতে পারে অটোরিকশা

পর্যাপ্ত গণপরিবহন থাকলে অটোরিকশা এত বাড়ত না

নীতিমালার মাধ্যমে চলতে পারে অটোরিকশা
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৩:৪২

ব্যাটারিচালিত রিকশা বা অটোরিকশা একটি নীতিমালার মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করার পক্ষে মত দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। তারা বলেছেন, অটোরিকশার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এটাকে আর দেশ থেকে তুলে দেওয়া সম্ভব না। নীতিমালার মাধ্যমে অটোরিকশাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে ইতোমধ্যে এই রিকশার বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তর থেকে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম করা হচ্ছে। এতে আরো বিশৃঙ্খলা বাড়বে। 

সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘নগরে বিদ্যুৎচালিত তিন চাকার যানবাহনের যোগাযোগ চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। সিপিডির কার্যালয়ে এ সভা হয়।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ও সঞ্চালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অটোরিকশার কারণে শহরে ভিড় বাড়ছে। দুর্ঘটনা বাড়ছে। মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে। যত্রতত্র লাইসেন্সবিহীন এই যান তৈরি হচ্ছে। এসব রিকশা যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
মূল প্রবন্ধে সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট খালিদ মাহমুদ বলেন, সড়কে মৃত্যুর ২১ দশমিক ০১ শতাংশই অটোরিকশার কারণে। এই রিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে দেশের মোট বিদ্যুতের ৫ শতাংশ প্রতিদিন ব্যবহার হচ্ছে, যা প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট। ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। চার্জিং স্টেশন আছে ৩ হাজার ৩০০। এসব রিকশায় ব্যবহৃত ব্যাটারির ২০ শতাংশ কোনোরকম রিসাইক্লিং করা হয়। বাকিটা পরিবেশে মিশে ক্ষতি করছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. আসিফুজ্জামান বলেন, অটোরিকশাকে বৈধতা দিতে হলে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ডিজাইন সঠিকভাবে করতে হবে। চালককে লাইসেন্সের অধীনে আনতে হবে। প্রতিটি যানের নিবন্ধন থাকতে হবে। 

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, এতদিনেও আমরা একটা ভাল গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। সুস্থ সুন্দর বাস সার্ভিস না দেওয়ার পেছেন প্রশাসনিক ব্যর্থতা যেমন আছে, তেমনি নাগরিক ব্যর্থতাও আছে।

অটোরিকশাচালক-শ্রমিকদের প্রতিনিধি খালেকুজ্জামান রিপন বলেন, ২০১২-১৩ সালে এই রিকশা প্রথম চলা শুরু হলে আমাদের তিনটি দাবি ছিল। প্রথমটি ছিল একটি সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন। দ্বিতীয়টি এই রিকশা চলার জন্য রাস্তার পাশে একটি পৃথক সার্ভিস রোড তৈরি। তৃতীয়টি চাঁদাবাজি বন্ধ। ২০১৭ সালে সরকার একটি নীতিমালা করার উদ্যোগ নেয়। ২০২৩ সালে ইলেক্ট্রিক যানবাহনের নীতিমালা হলো। কিন্তু এই রিকশার নীতিমালা হলো না। একটি নীতিমালার মাধ্যমে চালিত করলে এই রিকশা কমে যাবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ফিজিক্যাল স্ট্রাকচারাল ডিভিশন প্ল্যানিংয়ের অতিরিক্ত সচিব কবির আহমেদ বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ আইন না মানা। একটা সময় নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ছিল। একটি নিয়মের আওতায় আনলে এ রকম হতো না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পর্যাপ্ত গণপরিবহন থাকলে এই রিকশা এত বাড়ত না। 

বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স সেন্টারের (বিটাক) নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল বাকী বলেন, প্রয়োজনে অটোরিকশার কারিগরি উন্নয়নে বিটাক সহযোগিতা করবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, এই রিকশার গতি ১৫ কিলোমিটারের বেশি নির্ধারণ ঠিক হবে না। সীসাযুক্ত ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম ব্যাটারি হলে পরিবেশের ক্ষতি কমবে। ইতোমধ্যে বিআরটিএ সীসাযুক্ত ব্যাটারি ব্যবহৃত গাড়ির নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব নাজমুল হুদা শামীম বলেন, ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই সেটার প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এছাড়া ব্র্যাকের সহযোগিতায় ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ বানানো হয়েছে। তারা চালকদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

আরও পড়ুন

×