ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বরগুনায় গণপিটুনিতে কালু বাহিনীর প্রধান নিহত

ফেনীতে দুই মাসের সন্তানকে আছাড় মেরে হত্যা, বাবা আটক

বরগুনায় গণপিটুনিতে কালু বাহিনীর প্রধান নিহত
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৯:২৫ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৯:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনা সদর উপজেলায় গণপিটুনিতে কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালু (৩০) নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বদরখালী ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ফেনীর ফুলগাজীতে দুই মাসের সন্তানকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বগুড়ায় ছয় বছরের শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুরে মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ থেকে অজ্ঞাতনামা যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বরগুনা সদর উপজেলায় নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালু বদরখালী ইউনিয়নের ডেমা গ্রামের সোনা গাজীর ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে কালু বাহিনী। গতকাল বিকেলে বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে কালু ও তার সহযোগীরা। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কিছুক্ষণ পর কালু ও তাঁর সহযোগীদের গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কালু ও শুভকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কালুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহত গোলাম মোস্তফা ও  শুভ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সদর থানার ওসি আব্দুল আলীম জানান, কালুর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা বিচারাধীন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রায় চার মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্ত হয়ে আবারও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গোলাম মোস্তফার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর কালু ও শুভকে গণপিটু দেয় স্থানীয়রা। হত্যার ঘটনার তদন্ত চলছে।

সন্তান হত্যার অভিযোগে বাবা আটক
ফুলগাজীতে নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ জুনায়েদ। সে মোহাম্মদ সুলতান ও রুনা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। সুলতানের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ডাকঘর এলাকায়। কয়েক বছর আগে পরিবার নিয়ে ফুলগাজীতে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর ও শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন সুলতান।

শিশুটির মা রুনা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সংসারের খরচ বহন করতেন না। বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় ফিরে সুলতান তাঁকে একটি কোমল পানীয় কিনে আনার জন্য বাইরে পাঠান। দোকান থেকে ফিরে এসে রুনা দেখেন, তাঁর সন্তান নিথর পড়ে আছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। রুনা বলেন, ‘ছেলে কান্না করলে আমার স্বামী বিরক্ত হতো।’
তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুলতান পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, কোলে নিয়ে খেলার সময় সন্তান অসাবধানতাবশত তাঁর হাত থেকে পড়ে যায়। ফুলগাজী থানার ওসি এসএম মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শিশুকে হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ছয় বছরের শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সান্তাহার পৌরসভার সাহেবপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম রাকিকা আক্তার রাকা (৬)। সে সান্তাহার ইয়ার্ড কলোনির রায়হান আলীর মেয়ে এবং স্থানীয় নুরানি মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় আদমদীঘি থানায় মামলা করেছেন রায়হান।

মামলার চার আসামির মধ্যে রয়েছেন– প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, তাঁর স্ত্রী বন্যা বেগম ও বাবু হোসেন। তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, শিশু রাকার মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে ভরে ঘরের পাশে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

ময়লার স্তূপে যুবকের মরদেহ
গাজীপুর মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর; পরনে ছিল সাদা রঙের টি-শার্ট ও প্যান্ট।

শ্রীপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
(সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)

আরও পড়ুন

×