মরমি সাধক উকিল মুন্সির ‘প্রতিকৃতি’ উন্মোচন
উকিল মুন্সির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার আয়োজিত আলোচনা সভা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৯:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
মরমি সাধক উকিল মুন্সির কোনো আলোকচিত্র নেই। নেই তাঁর জীবদ্দশায় সংরক্ষিত কোনো প্রতিকৃতি। অথচ তাঁর কণ্ঠের উত্তরাধিকার, তাঁর গানের বেদনা এবং আধ্যাত্মিক অনুভব এখনও জীবন্ত। তাঁর অনুপস্থিত মুখের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ সাংস্কৃতিক রহস্য।
উকিল মুন্সির (১৮৮৫-১৯৭৮) জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী উৎসবে সেই রহস্যেরই নতুন এক দুয়ার খুলে গেল। ‘কুঁন ক্রিয়েটিভ স্টুডিও’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ছিল লোক ঐতিহ্য, গবেষণা, শিল্পচর্চা এবং সমকালীন চিন্তার এক সৃজনশীল মিলনমেলা। আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিচ্ছেদের বাজার : বিরহের ঐতিহ্য এবং সমকালীন বিচ্ছিন্নতার পুনর্পাঠ’।
বিকেল গড়াতেই উৎসবস্থলে জমতে থাকে দর্শক, গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীদের ভিড়। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল গান, আলাপ, প্রদর্শনী, প্রামাণ্যচিত্র এবং ভাবনার নানা স্তর। তবে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে উকিল মুন্সির একটি গবেষণাভিত্তিক প্রতিকৃতির উন্মোচন।
লোকসংস্কৃতির এই কিংবদন্তি সাধকের কোনো ভিজুয়াল রেকর্ড নেই। ফলে তাঁর একটি বিশ্বাসযোগ্য অবয়ব নির্মাণ করা ছিল প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি কাজ। এই চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কুঁন ক্রিয়েটিভ স্টুডিওর দৃশ্যশিল্পীদের একটি দল নৃবিজ্ঞান, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং ভিজুয়াল এথনোগ্রাফির সমন্বয়ে গ্রহণ করে ‘মাল্টি-সোর্স রিকনস্ট্রাকশন’ পদ্ধতি।
শিল্পীরা জানালেন, এটি কোনো চূড়ান্ত বা নির্ভুল প্রতিকৃতি নয়; বিজ্ঞান ও শিল্পের যৌথ প্রয়াসে নির্মিত একটি সম্ভাব্য মুখাবয়ব। আত্মীয়স্বজনের মৌখিক ইতিহাস, পারিবারিক সদস্যদের মুখাবয়বের সাদৃশ্য, স্থানীয় স্মৃতিচারণ এবং আঞ্চলিক ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা হয়েছে এই অবয়ব।
উন্মোচনের মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। উকিল মুন্সির পৌত্র কুলকুল আহমেদের হাতে যখন প্রতিকৃতির আবরণ সরে যায়, তখন উপস্থিত অনেকেই যেন ইতিহাসের এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়েন।
এই প্রতিকৃতি নির্মাণের জন্য কুঁন ক্রিয়েটিভ স্টুডিওর একটি দল নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে উকিল মুন্সির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করে। পুরো প্রকল্পটির কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ইমাম হোসেন সুমন। মুখাবয়ব অঙ্কন করেন শিল্পী আব্দুল্লাহ আল মামুন জয়। এ কাজে সহযোগিতা করেন শিমুল কুম্ভকার, ফাবিয়া তামান্না এবং রিফাতুজ্জামান জয়।
প্রতিকৃতি উন্মোচনের পাশাপাশি দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয় এর নির্মাণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ। প্রদর্শিত হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা অনার্য মুর্শিদ নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ‘একতারার ইমাম’। এ ছাড়া ‘এভিডেন্স ওয়াল’ এবং ভিজুয়াল ইনস্টলেশনের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে হাজির করা হয় গবেষণার সূত্র, তথ্য ও নানান অনুসন্ধানী উপাদান।
- বিষয় :
- জন্মবার্ষিকী
