ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফিরে দেখা ২০২৫

ফুটফুটে শিশুদের হারানোর এক কালো অধ্যায়

ফুটফুটে শিশুদের হারানোর এক কালো অধ্যায়
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:৩১ | আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৭:৩৯

ছুটির পর শিক্ষার্থীরা কেউ ক্লাস থেকে বেরিয়েছে, আবার কেউ তখনও ক্লাসে– এমন সময় স্কুল ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয় একটি যুদ্ধবিমান। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠেন শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা। মুহূর্তে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়, গুরুতর দগ্ধসহ নানাভাবে আহত হন অন্তত ১৬৫ জন। রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মর্মান্তিক এই ট্র্যাজেডিতে শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় ৩৫, যাদের অধিকাংশই শিশু।

গত ২১ জুলাই দুপুরে স্কুল ভবনে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আহত একজন এখনও জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। ওই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রশিক্ষণের সময় বিমানটি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্কুল ভবনটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন অনুযায়ী তৈরি হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ওই বিমান দুর্ঘটনার পর দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার অনন্য উদাহরণ তৈরি করেন মাইলস্টোনের দুই শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরী ও মাসুকা বেগম। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বর্ণনা অনুযায়ী, নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা শ্রেণিকক্ষে থাকা শিশুদের বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে তারা গুরুতর দগ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় তাদের। প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এ দুই শিক্ষিকার আত্মত্যাগ সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পরে ওই দুই শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। 

এ ছাড়া স্কুলটিতে আয়া হিসেবে কাজ করা মাসুমা বেগমও শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হন। গত ২৬ জুলাই বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে তিনি স্বামীকে বলেন, ‘আমি বাচ্চাগুলারে থুইয়া যদি চইলা যাইতে পারতাম, তাইলে আমার কিছু হইতো না। কিন্তু চিন্তা করছি, আমার যেমন সন্তান আছে, তেমনই আরেকজনের সন্তান এইখানে আছে। এই চিন্তা কইরা আমি আর কোনো দিকে যাই নাই।’ 

দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের একজন স্কুলটির সপ্তম শ্রেণির ছাত্র জারিফ ফারহান (১৩)। শিশুটির বাবা হাবিবুর রহমান লিটন জানান, জারিফের মা রাশেদা ইয়াসমিন প্রতিদিন তাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসতেন। সেদিনও তিনিই দিয়ে আসেন। পরে দুর্ঘটনার খবর শুনে তিনি স্কুলে ছুটে গেলেও সন্তানকে পাননি। শেষে তার খোঁজ মেলে উত্তরার একটি হাসপাতালে। পরে তাকে নেওয়া হয় বার্ন ইনস্টিটিউটে।

বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থীরাও পড়েন ব্যাপক ট্রমার মধ্যে। ঘটনার পর ‘স্কুল’ শব্দটি ছিল তাদের কাছে ভীতিকর। অভিভাবকরা জানান, স্কুলে যাওয়ার কথা বললে সন্তানের মধ্যে এক রকম আতঙ্কের ছাপ দেখেন তারা। পরে এমন শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করানো হয়। 
 

আরও পড়ুন

×