ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফিরে দেখা ২০২৫

বছরজুড়ে আদালতপাড়ায় আলোচিত যত ঘটনা

বছরজুড়ে আদালতপাড়ায় আলোচিত যত ঘটনা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:৪২ | আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৬:০৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ছিল বছরের আলোচিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম। আদালত অবমাননার অভিযোগে তাঁকে একই বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্লট দুর্নীতির চার মামলায় তাঁকে ২৬ বছর সাজা দেন ঢাকার আলাদা আদালত।

এ ছাড়া প্লট দুর্নীতির একাধিক মামলায় শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, তাঁর মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিচারের রায় ছিল বেশ আলোচিত। 
এ ছাড়া গেল বছর সর্বোচ্চ আদালতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সব আসামির সাজা বাতিল, দুর্নীতির মামলায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাজা বাতিল এবং একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের সাজা বাতিলসহ একাধিক রায় ছিল আলোচনায়।

পাশাপাশি নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে আসা গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীদের ওপর মব সৃষ্টি করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আলোচিত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ আসামিদের সাজা বহাল, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ আসামির সাজা বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। এ ছাড়া মডেল তিন্নি হত্যা মামলায় সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভিকে খালাস দেন ঢাকার আদালত।

এদিকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাদের বিচার নিয়ে নানা প্রশ্ন জন্ম দেয়। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার দেড় যুগ পর অধস্তন আদালতের বিচারকের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের উদ্যোগটি অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তটি ছিল ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী।

এ ছাড়া উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারককের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে আসে। বছর শেষ হওয়ার তিন দিন আগে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবিলিটির দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই অপরাধে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। অপর আসামি এ মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ গত ১৭ নভেম্বর এই রায় ঘোষণা করেছিলেন।

প্লট দুর্নীতির মামলায় সাজা: পূর্বাচল নতুন শহরে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি সজীব ওয়াজেদ জয়কে এক মামলায় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আরেক মামলায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন গত ২৭ নভেম্বর তিন মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার দায়ে শেখ হাসিনাকে গত ২ জুলাই ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। 

প্লট দুর্নীতির আরেক মামলার রায়: পূর্বাচল নতুন শহরে প্লট দুর্নীতির আরেক মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে গত ২৭ নভেম্বর ২১ বছর কারাদণ্ডদেশ দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক। পাশাপাশি সজীব ওয়াজেদ জয়কে এক মামলায় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া শেখ রেহানাকে সাত বছর এবং তাঁর মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ দেওয়ায় ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম গত ১ ডিসেম্বর এই রায় ঘোষণা করেন। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল: নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত। গত ২০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগ হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর ও রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে এই রায় দেন। তবে এটি কার্যকর হবে আগামী চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে। 

২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলা: বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের রায় বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৪ সেপ্টেম্বর এ রায় ঘোষণা করেন। ফলে এ মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে তারেক রহমানসহ ৪৯ আসামিই চূড়ান্তভাবে মুক্ত হন। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাজা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিকে খালাস দেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গত ১৫ জানুয়ারি এ রায় দেন। 

এক যুগ পর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পায় জামায়াত: রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। 
গত বছর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত ১ জুন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে দেন আপিল বিভাগ। 

এটিএম আজহারের সাজা বাতিল: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাজা থেকে খালাস পান জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গত ২৭ মে এই রায় দেন।

আরও পড়ুন

×