শেষ সাপ্তাহিক ছুটিতে উপচে পড়া ভিড়, ছাড়ের ছড়াছড়ি
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রাঙ্গণে গত ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা নামছে আজ শনিবার। এর আগে গতকাল শুক্রবার ছিল মেলায় শেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফলে বিভিন্ন পণ্যে ছাড়ের লোভনীয় অফার, পণ্যের বাহারি সমাহার আর বিনোদনের রঙিন আয়োজনে এ দিন যেন সকাল থেকে মেলা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বেলা যত গড়িয়েছে টিকিট কাউন্টার, প্রবেশপথ, প্যাভিলিয়ন এলাকা ও খাবারের কর্নার, সবখানেই ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
মেলায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার সুযোগ কাজে লাগাতে গতকাল সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছিল। দুপুরের পর প্রবেশপথ ও প্রধান প্যাভিলিয়ন এলাকাগুলো ছিল ভিড়ে ঠাসা। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায় স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
গতকাল মেলায় গিয়ে দেখা যায়, শেষ পর্যায়ে বিক্রি বাড়াতে অধিকাংশ প্যাভিলিয়ন ও স্টলে দেওয়া হয়েছে আকর্ষণীয় ছাড়। কোথাও ১০ শতাংশ, কোথাও ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ের ঘোষণা ঝুলছে। এ দিন পোশাক, থ্রিপিস, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা, কসমেটিকস, কিচেন আইটেম ও ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতে ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার, মোটরসাইকেল ও স্কুটির প্যাভিলিয়নগুলোতেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসা মাহবুব আলম বলেন, বছরের শুরুতে পরিবার নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটা ও ঘোরাঘুরির জন্য বাণিজ্য মেলা সবচেয়ে ভালো জায়গা। শেষের দিকে এসে ভালো ছাড় পাওয়া যায়, তাই সময় বের করে চলে এসেছি। পণ্যের বৈচিত্র্য আর পরিবেশ, দুটোই আমাদের ভালো লেগেছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে আসা গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন, শিশুদের বিনোদন আর বড়দের কেনাকাটা, সবকিছু এক জায়গায় থাকায় মেলায় আসতে ভালো লাগে। এবার দাম তুলনামূলক সহনীয় মনে হয়েছে। পরিবারের প্রয়োজনীয় বেশ কিছু জিনিস কিনতে পেরেছি।
এদিকে বিক্রি বাড়ায় সন্তুষ্ট বিক্রেতারাও। অনেকেই জানান, শেষ কয়েক দিনে তাদের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একটি ফার্নিচার প্যাভিলিয়নের ম্যানেজার কামরুল হাসান বলেন, শুক্রবার শেষ ছুটির দিনে ছাড় দেওয়ায় বিক্রি ভালো হচ্ছে। বিক্রির ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।
শিশুদের জন্য থাকা বিনোদন কর্নার ছিল মেলার অন্যতম আকর্ষণ। নাগরদোলা, প্যাডেল বোট, হেলিকপ্টার রাইড, ট্রেন ও নৌকার সামনে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে দেখা যায় শিশু ও অভিভাবকদের। মেলার খাবারের দোকানের অংশেও ছিল ভিড়। হাজীর বিরিয়ানি, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, ঝটপট, মিঠাই ঘর, টেস্টি ট্রিটসহ নানা স্বাদের খাবারের দোকানে সন্ধ্যার পর লাইন ধরে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের।
এবারের বাণিজ্য মেলায় মোট ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ছিল এবারের মেলার বিশেষ দিক।
পাশাপাশি দেশীয় নামকরা শিল্পগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্যে ভরপুর ছিল মেলা। বিশেষ করে কারাবন্দিদের তৈরি হস্তশিল্প পণ্যের স্টলে ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
- বিষয় :
- বাণিজ্য মেলা
