জনসভায় জামায়াত আমির
চাপে পড়ে গণভোট নিয়ে কথা বলছে একটি দল
আমরা মজলুম ছিলাম, কখনও জালিম হবো না
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫৯ | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বছরের পর বছর দেশবাসী কিছু মানুষের ছায়াও দেখেনি। সেই মানুষ যদি আমাকে বলে, গুপ্ত না সুপ্ত; হ্যাঁ, আমি গুপ্ত ছিলাম কারাগারে দফায় দফায়। আপনি যদি ওটাকে গুপ্ত বলেন, তাহলে আমি অবশ্যই গুপ্ত।’
শনিবার রাতে রাজধানীর গ্রিন রোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে নির্বাচনী সভায় জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন। ভোটের প্রচারে তারেক রহমান জামায়াতকে ইঙ্গিত করে গুপ্ত বলে খোঁচা দিচ্ছেন। দলটি আওয়ামী লীগ আমলে আন্দোলনে ছিল না বলেও দাবি করেছেন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার বর্ণনা দিয়ে জামায়াত আমির ঢাকা-১০ আসনের সভায় বলেছেন, দেশের মানুষকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যাইনি। ইচ্ছা করলে যেতে পারতাম। শুধু আমি নই, জামায়াতের কেউ পালিয়ে যাননি। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও সাহস করে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে ভোটের প্রচারে জামায়াতের নারীকর্মীদের হেনস্তা, মারধর করছে অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, ভোট চাইতে গেলে যারা মায়েদের বুকে লাথি দিয়েছে, তাদের কাপড় খুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, তারাই এখন ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর নামে মায়েদের প্রতি দরদ দেখাচ্ছেন!
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চামড়া শিল্পের আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সাভারে গেলেও আধুনিক শিল্পে রূপান্তরিত হয়নি। জামায়াত এ ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।
জনসভায় জামায়াত আমির ঢাকা-১০ আসনের ১১ দলের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকারের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। জসীম উদ্দীন নির্বাচনী এলাকায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির সংকট, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার চিত্র তুলে ধরে সমাধানের ওয়াদা করেন।
এর আগে বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জে শাক্তা সরকারি স্কুল খেলার মাঠে জনসভা করেন শফিকুর রহমান। তারেক রহমান গণভোটে হ্যাঁ-এর প্রচার শুরু করার বিষয়ে জামায়াত আমির কেরানীগঞ্জে বলেছেন, জনগণের চাপে পড়ে গণভোট নিয়ে একটি দল একটু একটু কথা বলছে।
জামায়াতের আমির বলেন, যারা নিজেরাই বছরের পর বছর গুপ্ত হয়ে ছিলেন, তারাই আজ মজলুমদের নিয়ে কথা বলছেন। অন্যের চেহারা না দেখে নিজের চেহারা দেখুন। অতীতের শাসকরা দেশকে ভালোবাসেনি, জনগণকে শোষণ করেছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ দেশে গুম, খুন ও ‘আয়নাঘর’ সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশকে একটি শ্মশানে পরিণত করা হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে কেরানীগঞ্জকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করে পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়ণ করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জনসভায় ঢাকা-১ আসনের ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ঢাকা-২ আসনের কর্নেল (অব.) আব্দুল হক, ঢাকা-৩ আসনের অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম, এনসিপির ঢাকা-১৯ আসনের দিলশাদ পারুল ও ঢাকা-২০ আসনের নাবিলা তাসনিদকে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা জেলার আমির দেলোয়ার হোসাইন।
‘আমরা কখনও জালিম হবো না’
শনিবার সকালে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, আধিপত্যবাদ মানব না, ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতনেও দেশ ছাড়িনি। মজলুম ছিলাম, মজলুমের দুঃখ আমরা বুঝি। এজন্য আমরা কখনও জালিম হবো না।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের সমর্থনে জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিপরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন।
জনভায় বক্তৃতা করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, ঢাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েমসহ জোটের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
‘মায়েদের গায়ে হাত দিলে বসে থাকব না’
শনিবার দুপুরে দাউদকান্দি ঈদগাহ মাঠে জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবিরোধী, মামলাবিরোধী সমাজ বিনির্মাণের জন্য জনগণ আজ একাট্টা। সারাদেশে গণজোয়ার শুরু হওয়ায় অনেকে দিশেহারা। এখন তারা মায়ের গায়ে হাত দেয়, বেইজ্জত করে। পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, মায়েদের গায়ে হাত দিলে, আমরা বসে থাকব না।
বক্তব্য শেষে কুমিল্লা-১ আসনে ১১ দলীয় প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুলের হাতে দাঁড়িপালা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।
(সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)
- বিষয় :
- জামায়াত
- সমাবেশ
- গণভোট
- নির্বাচনী জনসভা
