ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাজারে ৬১% ক্ষেত্রে হামলার কারণ ধর্মীয় মতবিরোধ

সম্প্রীতি যাত্রার গোলটেবিল বৈঠকে তথ্য

মাজারে ৬১% ক্ষেত্রে হামলার  কারণ ধর্মীয় মতবিরোধ
×

ফাইল ছবি

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৬ | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯৭টি হামলার ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে এবং ৩৭টির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ৯৭টি ঘটনার মধ্যে ৫৯টি ক্ষেত্রে (৬১ শতাংশ) ধর্মীয় মতবিরোধের কারণে হামলা করা হয়েছে। ২১টি হামলা হয়েছে স্থানীয় মতবিরোধের কারণে, যা মোট ঘটনার ২১ শতাংশ। রাজনৈতিক কারণে হামলা হয়েছে ১৬টি (১৭ শতাংশ)। মাজার কমিটির অন্তর্দ্বন্দ্ব তথা পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফলে হামলা হয়েছে একটিতে। হামলার কারণে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব হামলায় ‘তৌহিদি জনতা’র বেশভূষা ও নেতৃত্ব ছিল অপরিবর্তিত।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: সহিংসতার ধারাবাহিকতা এবং সম্প্রীতির দায়বোধ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উঠে আসে। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘সম্প্রীতি যাত্রা’ এর আয়োজন করে। 

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সম্প্রীতি যাত্রার সদস্য সজীব তানভীর মাকাম। বিভিন্ন হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রবন্ধে বলা হয়, সারাদেশে সংঘটিত মাজার হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ১১টি। হামলার প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সক্রিয়তা পাওয়া গেছে ১১ শতাংশ ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ৮৯ শতাংশ।

লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ফাহিমা নাসরিন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, বাসদ (মার্ক্সবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, লোকায়ত বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক ও চিন্তক অরূপ রাহী, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী লায়েকা বশীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য অনীক রায়, সাংবাদিক, কবি ও অনুবাদক রাফসান গালিব, নবী দিবস ও মহাত্মা সম্মেলন উদযাপন পরিষদ ঢাকা বিভাগের সহকারী সচিব শাফায়াৎ এইচ চৌধুরী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নদী, পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাঈদ রানা এবং ব্লাস্টের দুরদানা ফরিদ। 

ফাহিমা নাসরিন বলেন, বাংলাদেশ আফগানিস্তান না। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মান্ধ না, ধর্মভীরু। কাউকে বাদ দিয়ে পথ চলতে পারব না। জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, দেশে সরকার আছে সেটাই তো বিশ্বাস হতে চায় না। সরকার উদীচীতে হামলার সুযোগ করে দিয়েছে, সরকার তার ভূমিকা পালন করেনি। 
মাসুদ রানা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার পর চেয়েছিলাম সবার জন্য দেশ।  কিন্তু শাসকগোষ্ঠী সবসময় বিভেদ টিকিয়ে রাখতে চায়। 
সামান্তা শারমিন বলেন, সরকারের ভেতরে এমন একটা অংশ আছে, যারা চায় মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা থাকুক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর আলম কেবল একটা মুখ। জাতিগত ও ধর্মীয় বিষয়গুলো জাতি হিসেবে আমরা ডিল করতে পারিনি। 
অনীক রায় বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে এখনও রাজনৈতিক কর্মী বা সাধারণ মানুষ– কারও নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা হয়নি। 

আরও পড়ুন

×