প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিকল্প তিন স্থান
এমপিদের বসবাসের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ২৬৫ ফ্ল্যাট
ঢাকায় বাসা নেই যাদের তারা অগ্রাধিকার পাবেন
অমিতোষ পাল
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আবাসনের জন্য দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রথম ধাপে সংসদ ভবনের সামনের ২১৬টি ফ্ল্যাটকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নাখালপাড়ায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পেছনে থাকা আরও ৪৯টি ফ্ল্যাট ঠিক করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে নাখালপাড়ার ফ্ল্যাটগুলো অনেক পুরোনো হওয়ায় সেগুলো বাসোপযোগী করতে কিছুটা সময় লাগবে।
জাতীয় সংসদ ভবনেও কিছু মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। এসব কাজের জন্য ইতোমধ্যে ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি জায়গা চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। শেরেবাংলা নগরে গণভবনের পশ্চিম-উত্তর পাশে এই বাসভবন নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে নকশা প্রণয়ন শুরু করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চূড়ান্ত মতামত নিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন’ তৈরির কাজ শুরু করতে চায় গণপূর্ত অধিদপ্তর। তার আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় থাকতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া বিকল্প হিসেবে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা স্পিকারের বাসভবনেও চাইলে থাকতে পারবেন তিনি। প্রয়োজনে ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকেও সংযুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য মন্ত্রিপাড়ায় বা বিকল্প স্থানে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসান সমকালকে বলেন, ইতোমধ্যে সবখানে কাজ শুরু হয়েছে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে সার্বক্ষণিক এই কাজের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এমপি হোস্টেলগুলো অব্যবহৃত থাকায় একটু সময় লাগবে। বেশি বিলম্ব হবে না। কারণ কিছু রংচং, কমোড, বেসিন ও আসবাব মেরামত করা লাগবে।
গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সংসদ সদস্য ভবন (ন্যাম), সংসদ সদস্য হোস্টেল কমপ্লেক্স এবং নাখালপাড়ায় এমপিদের জন্য বরাদ্দ ফ্ল্যাটগুলো প্রস্তুতের কাজে নেমেছে পূর্ত বিভাগ। এসব ভবনে নতুন করে রং করা হচ্ছে। কোথাও হাতুড়ির ঠুকঠাক শব্দ, কোথাও আবার পুরোনো আসবাব ঘষেমেজে তকতকে করার ব্যস্ততা। পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেগুলো তদারকি করছেন। পাশাপাশি এমপি হোস্টেল, লাউঞ্জ, ডাইনিং ব্লক এবং অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষগুলোর পরিচ্ছন্নতা, শোভা বর্ধন ও প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজও চলছে।
তদারককারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব ফ্ল্যাট ফাঁকা পড়ে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এগুলো আর ব্যবহার হয়নি। তৎকালীন এমপিরা যে যেমনভাবে সম্ভব দ্রুত পালিয়েছেন। প্রায় সব ফ্ল্যাটই ছিল তালাবদ্ধ। ফলে জমে থাকা ধুলোবালি, দাগ ও ক্ষতচিহ্ন দূর করতে চলছে ব্যাপক সংস্কার। বাথরুমের কল, স্যানিটারি লাইন ও পানির সংযোগে অকেজো যন্ত্রাংশ সরিয়ে বসানো হচ্ছে নতুন ফিটিংস। বৈদ্যুতিক সংযোগ, আলোকসজ্জা, সুইচ, ফ্যানসহ সব ধরনের ইলেকট্রিক্যাল ফিটিংস নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ বলেন, নতুন এমপিদের আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙের কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিভিল, স্যানিটারি ও ইলেকট্রিক্যাল ফিটিংস-সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি থাকলে তা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এসব ফ্ল্যাটে ওয়াশরুমের ফিটিংস ঠিক করা, কিচেন কেবিনেট সংস্কার, গেটের লক পরিবর্তন, কমোড বদলানোর পাশাপাশি পুরোনো ও অকার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) অপসারণ করে নতুন এসি স্থাপন করা হচ্ছে। যেসব এমপির রাজধানীতে থাকার জায়গা নেই, তাদের প্রথম ধাপে প্রস্তুত ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন, তাদের জন্য মন্ত্রিপাড়ায় আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে ২৪টি বাংলোবাড়ি ও ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এসবের কিছু বাড়িতে ইতোমধ্যে উপদেষ্টা ও সরকারি পদস্থ কর্মকর্তারা বাস করছেন। তারা ছেড়ে দিলেই সেখানে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা উঠতে পারবেন। যে কয়েকটি খালি রয়েছে, সেগুলোতে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন ফাঁকা থাকা মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনটি এবার মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩০ বছর ধরে সেটা অব্যবহৃত থাকায় এটাকে প্রস্তুত করতে সময় লাগতে পারে। ১৯৯৬ সালের পর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রী বাড়িটি ব্যবহার করেননি।
- বিষয় :
- ফ্ল্যাট
