ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তাজুল বাদ, আমিনুল ইসলাম নতুন চিফ প্রসিকিউটর

এবার প্রসিকিউটর পরিবর্তন আসছে

তাজুল বাদ, আমিনুল ইসলাম নতুন চিফ প্রসিকিউটর
×

মো. আমিনুল ইসলাম

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাঁর স্থানে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম। 

নতুন এই নিয়োগের বিষয়ে গতকাল সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ। নিয়োগ পাওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। গতকাল ট্রাইব্যুনালে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের সময় নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে স্বাগত জানান প্রসিকিউটররা। পরে চিফ প্রসিকিউটর তাঁর নতুন কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার। এর অংশ হিসেবে গতকাল চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এবার পর্যায়ক্রমে প্রসিকিউটরও পরিবর্তন করা হবে। বর্তমানে ১৭ জন প্রসিকিউটর রয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন ছাড়া বাকিরা জামায়াতে ইসলামী ঘরানার। পাশাপাশি দুটি ট্রাইব্যুনালের মধ্যে একটি বেঞ্চের চেয়ারম্যান ও একাধিক সদস্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচিত সরকারের এই সময়ে ট্রাইব্যুনালে বিচারের গতি আরও বাড়বে, অপরাধীদের প্রাপ্য সাজা নিশ্চিত করা হবে। আমি একটা কথা শুধু বলতে চাই, এই ট্রাইব্যুনালে যেসব অপরাধী বিচারের সম্মুখীন, তাদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা– যারা কোনো অন্যায় করেননি, তারা কোনো হয়রানির শিকার হবেন না। কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের প্রাপ্য সাজা তারা পেতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাঁর অধীনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। বর্তমানে এসবের বিচারকাজ চলছে দুটি ট্রাইব্যুনালে।
এসব মামলার মধ্যে রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটির। ঘোষিত রায়ে দণ্ডিত ২৬ জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ পুলিশের প্রধানও রয়েছেন। 
রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ দুটি মামলা। এরই মধ্যে আগামী ৪ মার্চ ঘোষণা হবে রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মামলারও বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও আওয়ামী লীগের একাধিক এমপি-মন্ত্রী এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি। 

কে এই আমিনুল
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) বিদ্রোহ ও হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে অন্যতম আইনজীবী ছিলেন তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ারও আইনজীবী ছিলেন। আমিনুল ইসলাম ১৯৯৩ সালের ২৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে এবং ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তাঁর স্ত্রী অ্যাডভোকেট সুফিয়া আক্তার হেলেন মাধবপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। 

বিদায় বেলায় তাজুলের অম্লমধুর অনুভূতি
পদ হারানোর পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সদ্যবিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, তাঁকে এই পদ থেকে খুবই ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়’ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে নিজেদের পছন্দনীয় লোক বসাবেন– এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। এখানে অবাক হওয়ার কিছু নেই। 
প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর বিদায়বেলায় অম্লমধুর অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে স্বাগত জানাই। তিনি যাতে আমাদের অসমাপ্ত দায়িত্ব পালনে সফল হন। 
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন তাজুল ইসলাম। পাশাপাশি তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আগে থেকে জানতেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তাজুল বলেন, সরকারের কাছ থেকে আমাদের প্রথমে বলা হয়েছিল যে আমরা যেভাবে আছি, সেভাবেই চলবে। তারপর রোববার একজন আমাকে ধারণাটা দিয়েছেন যে সরকারের ইচ্ছা, এখানে নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার। পদত্যাগ করলে ভিন্ন বার্তা যেতে পারত।
মামলার আসামিদের ক্ষেত্রে বেছে বেছে আসামি করা হয়েছে কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে এ বিষয়টি বৈধ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দুনিয়ার ইতিহাসে দেখবেন কোথাও গণহারে হাজার হাজার সৈন্যকে শাস্তি দেওয়া হয় না। সেখানে টপ কমান্ডারদের দেওয়া হয়।
নিজের মেয়াদের বিচার ও রায়ের মান নিয়ে তিনি বলেন, আমি খুব আত্মবিশ্বাসী। যে রায় হয়েছে, যে ডকুমেন্ট আমরা উপস্থাপন করেছি, এই ব্যাপারে উচ্চ আদালতে গিয়ে রায় উল্টে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

আরও পড়ুন

×