‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কার
নারীর ক্ষমতায়নে পথপ্রদর্শক ছিলেন খালেদা জিয়া
আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সম্মাননা দেবে
খালেদা জিয়া
কামরুল হাসান
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। আজ রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সম্মাননা দেবে।
নারীর ক্ষমতায়নের ভিত্তি প্রথম স্থাপন করেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। তিনি মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সরকারি চাকরি ও শিক্ষায় নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা চালু করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সরকার কাঠামোতে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। এসব পদক্ষেপ নারীদের জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসে।
বিএনপি নেতারা জানান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নব্বইয়ের নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। এরপর নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমানের সেই ভিত্তিকে সম্প্রসারিত করে জাতীয় রূপ দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনগত অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে ব্যাপক উদ্যোগগুলো চালু করেন।
তাঁর যুগান্তকারী ‘ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’ গ্রামীণ মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা বিনামূল্যে করে দেয়। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের ভর্তি বাড়ে। বাল্যবিয়ে কমে যায়, জন্মহার কমে এবং লাখ লাখ মেয়ের জন্য নতুন অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করেন ‘ফুড ফর এডুকেশন প্রোগ্রাম’ এবং পরবর্তী সময় ‘প্রাইমারি এডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রোগ্রাম’ চালুর মাধ্যমে।
তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি ‘হেলথ, নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন সেক্টর প্রোগ্রাম’ চালু করেন, যা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করে। এটা মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। তিনি ১৯৯৫ সালে ‘বেগম রোকেয়া’ পদক প্রবর্তন করেন। এটা বাংলাদেশের নারীদের জন্য অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা।
সংসদে নারীর সংরক্ষিত আসন ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করেন। ফলে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ে। নাগরিক প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও জাতীয় রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা অভূতপূর্ব মাত্রায় সম্প্রসারিত হয়। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে নারীদের প্রতি প্রতিহিংসা কমাতে ধর্ষণ, এসিড সন্ত্রাস ও যৌতুকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেন। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টার পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীর উন্নয়নে বিস্ময়কর ও অভাবনীয় কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। দেশে দারিদ্র্য, সামাজিক ব্যাধি, বাল্যবিয়ে ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেয়েদের শিক্ষালয়ে ধরে রাখাটা দুষ্কর ছিল। তখনই খালেদা জিয়া মেয়েদের লেখাপড়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক, মেয়েদের উপবৃত্তি কর্মসূচি, মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা সহায়তা (ফ্রি টিউশন কর্মসূচি) বাড়ান। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করাটা ছিল তাঁর বৈপ্লবিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
নারী শিক্ষাকে মূলধারায় নিয়ে আসা এবং এর ব্যাপক প্রসারে তিনি যে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, তা এ উর্বর জনপদে আজন্মকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তা ছাড়া, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নানা রকম কর্মসূচি প্রণয়ন, যা কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিকভাবে তাদের স্বাবলম্বী করেছে। এতে অসংখ্য নারী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে স্বনির্ভর হতে পেরেছে বলে তাদের ক্ষমতায়নের পথ শক্তিশালী হয়েছে।
কালজয়ী এ মহীয়সী নারীর সফলতা শুধু রাজনৈতিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি ইতিহাসে নারী জাগরণের এক মহান ধ্রুবতারা। তার সাফল্যমণ্ডিত কর্মময় জীবন নারী জাতির মুক্তির এক আদর্শিক দিকপাল।
বিএনপি নেতারা জানান, বিএনপি সরকারের আমলে খালেদা জিয়াই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য নারী কোটা চালু করেন। ফলে মেয়েদের ভর্তি নাটকীয়ভাবে বাড়ে।
তিনি ‘ন্যাশনাল ফোরাম ফর উইমেন’-এর মাধ্যমে নারীর অধিকারকে শক্তিশালী করেন। পুলিশ বাহিনীতে নারীর অন্তর্ভুক্তি পুনরায় চালু করেন, যা প্রথম শুরু করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সমকালকে বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদান, তাদের সংস্কার আজও বেঁচে আছে– মেয়ে ভরা শ্রেণিকক্ষ, নারী নেতৃত্বাধীন কর্মক্ষেত্র, স্থানীয় সরকার, পুলিশ বাহিনী, সংসদ এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে–যেখানে বাংলাদেশের নারীরা আজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে। ইতিহাস কখনোই সেই পরিবর্তন মুছে দিতে পারে না, যা এরই মধ্যে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে রূপান্তরিত করেছে।
- বিষয় :
- খালেদা জিয়া
