পর্যালোচনা ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস করুন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ যথেষ্ট শক্তিশালী করা হয়েছে। তাই পর্যালোচনা ছাড়াই অধ্যাদেশটিকে জাতীয় সংসদে পাস করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
গতকাল সোমবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কার্যালয়ে নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, জারি হওয়া অধ্যাদেশটির ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতে পারে। এগুলো ঠিক করার জন্য আগামীতে আরও কাজ করা হবে। তবে এই মুহূর্তে মূল কাজ হচ্ছে অধ্যাদেশ পাস করে কমিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় মানুষের আস্থার জায়গা হতে চাই। আমরা নিষ্ক্রিয় থাকতে চাই না, সহায়ক হতে চাই, কার্যকর হতে চাই।
কমিশন কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নিজের করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মো. নুর খান লিটন, অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম, ড. নাবিলা ইদ্রিস, ইলিরা দেওয়ানসহ কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, কোনো কমিশনের সদিচ্ছা যতই থাকুক না কেন, এর কার্যকারিতা অনেকখানি নির্ভর করে আইনি ভিত্তির ওপর। আইন যদি শক্তিশালী হয়, স্বাধীনতা যদি সুরক্ষিত থাকে, ক্ষমতা যদি রাষ্ট্রীয় শাসন হয় এবং প্রতিকার দেওয়ার সুযোগ যদি সত্যিকার অর্থে নিশ্চিত করা হয়, তাহলে কমিশনও অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি সেই আইনের ক্ষমতা খর্ব করা হয়, স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিসর সংকুচিত করা হয়, তাহলে ক্ষতিটা শুধু প্রতিষ্ঠানের হবে না, হবে দেশের ও আপামর জনগণের।
অনুষ্ঠানে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও রয়েছে। সেটা যেন অবশ্যই সংসদে অনুমোদন হয়। তাছাড়া এই অধ্যাদেশে যেসব ক্রটি-বিচ্যুতি আছে, সেটা নিয়ে পরবর্তীতে কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা দিতে সংবিধানে ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা আছে, সেটা না দেওয়ায় কমিশনের পক্ষে একা এতে বিষয় দেখা সম্ভব না। তিনি বলেন, আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এখন এটা পরিবর্তন হয়েছে। এই মুহূর্তে কাজ হলো অর্ডিন্যান্সকে সংসদে পাস করানো এবং কমিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। যারা কমিশনে কাজ করতে আসবেন, তাদের শিরদাঁড়া শক্ত থাকতে হবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অনেক ভালো। তবে এখানে কিছু অপ্রাপ্তি রয়েছে। যেমন আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়টি পুরোপুরি দেওয়া হয়নি। তারপরও অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা ছাড়াই যেন সংসদে পাস হয় সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মতবিনিময় সভায় ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু কমিশন গঠন করার জন্য কমিশন না হয়ে এটি যেন ভালো ভূমিকা পালন করে। যে আইন পাস করা হবে, সেটা যেন ‘কাগুজে বাঘ’ না হয়।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, যারা সবচেয়ে প্রান্তিক অবস্থানে থাকেন, তারাই মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। তাই জেলা পর্যায়ের মানবাধিকার কমিটি গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জেলার মানবাধিকার বাস্তবায়নে যেন মানবাধিকারকর্মীরা কাজ করতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আদিবাসী অধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত প্রমুখ।
- বিষয় :
- মানবাধিকার কমিশন
