ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংসদ শুরু হতে পারে খন্দকার মোশাররফের সভাপতিত্বে

বিএনপির সংসদীয় দলের সভা বুধবার

সংসদ শুরু হতে পারে খন্দকার মোশাররফের সভাপতিত্বে
×

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩২ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগের দিন আগামীকাল বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভা হবে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় ঠিক হতে পারে, স্পিকার নির্বাচনে প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতিত্ব করতে পারেন। 

১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। সংবিধান অনুযায়ী, বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করায় এবং হত্যা মামলায় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় প্রথম অধিবেশন শুরু করতে একজন সভাপতি প্রয়োজন।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কোনো কারণে সভাপতিত্ব করতে অক্ষম হলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর তাঁর সভাপতিত্বেই সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কারা হবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম শোনা যাচ্ছে স্পিকার পদের জন্য। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদটি জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিএনপি। তবে সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবিতে জামায়াত গতকাল সোমবার পর্যন্ত নিশ্চিত করেনি, ডেপুটি স্পিকার পদটি নেবে কিনা।  

প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এরপর শোক প্রস্তাব এনে সেদিনের মতো অধিবেশন মুলতবি করা হবে। প্রথম অধিবেশনের পরবর্তী দিনগুলোতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনবে সরকারি দল। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করা হবে। 
আওয়ামী লীগ আমলের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অসমর্থ হওয়ায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিন পর নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫(১) অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির মনোনয়নের বিধানটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সরকারি দলের সভা থেকে যাঁকে মনোনীত করা হবে, তিনিই সভাপতিত্ব করবেন। 
বিএনপির একাধিক মন্ত্রী ও হুইপ সমকালকে বলেন, স্পিকার না থাকায় সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ একজন নেতার সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। দলীয় ক্রম অনুসারে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনই সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ। আর এমপি হিসেবে জ্যেষ্ঠ মেজর হাফিজ। তিনি সাতবারের এমপি। খন্দকার মোশাররফ হোসেন পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন জয়নুল আবদীন ফারুক।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে আলোচনায় যারা
সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ বসাতে চাইছে বিএনপি। স্পিকার পদের জন্য ড. মঈন খান ও মেজর হাফিজ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন। 

একাধিক হুইপ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া আর কেউ জানেন না, কে হতে যাচ্ছেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। সংসদ পরিচালনায় যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে একজন হতে পারেন। 
আবার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের নামও আলোচনায় রয়েছে। জয়নুল আবেদীন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে আইন পেশায় দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এবং সংবিধান ও সংসদীয় বিধিবিধান বিষয়ে দক্ষতার কারণে তিনিও আলোচনায় আছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 
জামায়াত না নিলে প্রথম দিনে দলীয় এমপিদের মধ্য থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করবে বিএনপি। এ পদের জন্যও কয়েকটি নাম আলোচনায় রয়েছে।  

এখনও দু্জন শপথের বাইরে
নির্বাচনে ভোট বেশি পেলেও ঝুলে আছে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপির প্রার্থীদের ভাগ্য। সরোয়ার আলমগীর ও মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ফল আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।  তারা প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না। 
দুজনের বিরুদ্ধেই ঋণখেলাপির মামলা রয়েছে। আদালত নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও তাদের প্রার্থিতা বৈধ ছিল কিনা– তা আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির পর জানা যাবে। ঋণখেলাপি প্রমাণিত হলে শপথের আগেই পদ হারাবেন সরোয়ার ও আসলাম। আর খেলাপি ছিলেন না প্রমাণিত হলে শপথ নিয়ে সংসদে যেতে পারবেন। 
এদিকে সোমবার সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সরকার বিএনপির এমপিদের সংসদীয় দলের সভায় উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। 

 

আরও পড়ুন

×