ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংলাপ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নোট অব ডিসেন্ট সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত

নোট অব ডিসেন্ট সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত
×

সালাহউদ্দিন আহমেদ

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১২:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে আরোপিত আদেশ এক দিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। যেসব বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) রয়েছে, সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউএনডিপি ও ঢাকায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে সংসদ সদস্য, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বক্তারা মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশকে সংসদে আইন হিসেবে হুবহু পাস করার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনগণ আমাদের ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে। সেই ম্যান্ডেট অনুযায়ী আমরা সংসদে সিদ্ধান্ত নেব। মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও সবকিছু এক দিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অনেকগুলো সংসদে পাস বা সংশোধন করে গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, মানবাধিকার আমাদের অঙ্গীকারের বিষয়। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা কর্মসূচিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা শূন্যে আনার লক্ষ্য আমাদের। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে এগোতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়েছি। এটাতে আমাদের জাতীয়ভাবে সম্মত থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের হাতে যদি কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়ে থাকে, আজকাল একটা আওয়াজ উঠছে যে তাদের (ভুক্তভোগী) কি মামলা করার অধিকার নেই? কেন দায়মুক্তি দিলেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় বাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের গুলিতে ১৪০০ জনের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে যদি আমাদের কোনো কর্মকাণ্ড এমন হয় যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, আমরা তো সবকিছুকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলতে পারব না। লাখ লাখ মামলাবাজির মধ্য দিয়ে দেশে শান্তি স্থাপন করা যাবে না।’

সংলাপ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বর্তমানে দেশে অনেক মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছে। তিনি বলেন, এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন, দেশের বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা, যাদের আইনের শাসন রক্ষার বিষয়ে আরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া উচিত ছিল।

এ অবস্থার উত্তরণ প্রত্যাশা করে রেহমান সোবহান বলেন, যেসব ব্যক্তি বেআইনিভাবে কারা হেফাজতে আছেন, তাদের সবার মানবাধিকার পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসনের কার্যকারিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের জন্য ‘লিটমাস টেস্ট’ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, ইতিহাস সাক্ষী যে পূর্ববর্তী সরকারগুলো বিরোধীদের অধিকার লঙ্ঘন করে এসেছে। আবার যখন সেই বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে, তখন তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের বিরোধীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনেই সময় ব্যয় করে।
সংসদ সদস্যদের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ কী হবে, সেই প্রশ্ন তুলে রেহমান সোবহান বলেন, ‘যারা নিজেদের মানবাধিকারের প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরছেন, তারা কত দূর নিশ্চিত করবেন যে দেশে আইনের শাসন বজায় থাকবে? আমাদের সত্যিই একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে এবং এটি মানবাধিকার রক্ষার পরিবর্তে লঙ্ঘনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না?’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস হবে– এমন আশাবাদ জানিয়ে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘কমিশন কতটা কার্যকরভাবে কাজ করবে, তা একান্ত নির্ভর করবে পূর্ববর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মতো সালাহউদ্দিন আহমেদও এটিকে উপেক্ষা করেন কিনা, তার ওপর।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, আহমেদ আযম খান, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, এনসিপি নেত্রী আইনজীবী হুমায়ারা নুর, মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন, এএলআরডির শামসুল হুদা প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×