‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে বিরোধীদের ওয়াকআউট
প্ল্যাকার্ড হাতে সংসদে জামায়াতে ইসলামের সংসদ সদস্যরা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১৭:২৭
রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াক আউট করেছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের ৭৭ এমপি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশন কক্ষে আসবেন, ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী এমপিরা নিজ আসেন দাঁড়িয়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দেয় পোস্টার প্রদর্শন করেন। স্লোগানের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে থাকলে, বিরোধী জোট ওয়াক আউট করে।
বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি কিছুক্ষণের মধ্যে সংসদে আসবেন। রাষ্ট্রপতিকে ‘জুলাই গণহত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত জোটের এমপিরা প্রতিবাদ শুরু করেন। এর তিন মিনিট পর রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারি দল বিএনপির এমপিরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। রাষ্ট্রপতি বসেন স্পিকারের পাশের আসনে।
তবে বিরোধী দলের এমপিরা সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে সম্মান না জানিয়ে, প্রতিবাদ শুরু করেন। পোস্টার উঁচিয়ে স্লোগান দেন। পোস্টারে লেখা ছিল, ‘জুলাই গাদ্দার’, ‘গো ব্যাক কিলার চুপ্পু’, ‘কিলার চুপ্পুর বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান। এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও পোস্টার হাতে প্রতিবাদে যোগ দেন। পুরো ঘটনা নিজ আসনে বসে প্রধানমন্ত্রী অবলোকন করেন।
জাতীয় সংগীতের সময় বিরোধী জোটের এমপিরা প্রতিবাদে বিরতি দেন। মিনিটখানেক নীরবে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ মঞ্চে উঠলে জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে প্রবেশ পথে নেমে আসেন। তবে বাধার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে শুরু করেন। যদিও শোনা যাচ্ছিল না স্লোগান হট্টগোলের কারণে।
এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্র এক সাথে চলে না।’ এতে যোগ দেন অন্য এমপিরা। রাষ্ট্রপতি প্রতিবাদকারীদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার লিখিত ভাষণ পড়া শুরু করেন।
তখন হাসনাত আবদুল্লাহ এবং আবদুল হান্নান মাসউদ স্লোগান দেন, ‘কিলার চুপ্পু গো ব্যাক’। বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারাও স্লোগান দেন।
এই সময়ে সব এমপি সমস্বরে স্লোগান ধরেন, ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’। স্লোগান দিতে দিতে এমপিরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তাঁরা নবম তলায় বিরোধীদলের সভা কক্ষে চলে যান।
অধিবেশন কক্ষ থেকে জামায়াতের হুইপ শাহাজাহান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে যিনি রয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক নয়, ফ্যাসিবাদের দোসর। তাঁর হাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্ত রয়েছে। তাঁর ভাষণ আমরা শুনব না।
এর আগে শোক প্রস্তাবের সময় ভাষণেও নাহিদ ইসলামসহ বিরোধী এমপিরা স্পিকারকে সতর্ক করেছিলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর কেউ যেন সংসদে আসতে না পারে।
ডা. তাহের সমকালকে বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর রাষ্ট্রপতিকে ভাষণের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। অভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়নি। নির্বাচনসহ যা কিছু হয়েছে, তা জুলাই গণঅভ্যুত্থান অনুযায়ী হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণও অভ্যুত্থানের ক্ষমতায় বাদ দেওয়া যেত। তা করে সরকার পুরনো বন্দোবস্তের প্রতি আঁতাতের লক্ষণ দিয়ে সংসদ শুরু করেছে।
