ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংসদে খালেদা জিয়া ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা

শোক প্রস্তাব গৃহীত, এক মিনিট নীরবতা পালন

সংসদে খালেদা জিয়া ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা
×

খালেদা জিয়া

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। 
এর আগে খালেদা জিয়ার ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কখনোই আপস করেননি। তাঁর শাসনামলে তিনি দেশের নারীদের উন্নয়নে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, উন্মুক্ত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের অনুমতি ছিল তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর কারামুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। তিনি যত আসনেই নির্বাচন করেছেন, সব কয়টিতেই জিতেছেন।  গণতন্ত্রের মা আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি মানুষের মাঝে আছেন। তিনি জীবিত থাকবেন গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হয়ে। 

সংসদে খালেদা জিয়াকে নিয়ে আলোচনা পর্ব শেষ হওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে থামিয়ে দেন। এ সময় গয়েশ্বর রসিকতার সুরে বলেন, ‘নতুন আসছি তো, ছোটখাটো ভুল হয়েই যায়।’

বক্তব্যের শুরুতেই গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পের উদ্ধৃতি টেনে আবেগঘনভাবে বলেন, ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই। খালেদা জিয়াও মরিয়া প্রমাণ করিলেন, তিনি মরেন নাই।’ তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রয়াত নেত্রীর রাজনৈতিক আদর্শের অমরত্বের কথা তুলে ধরেন।
জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা যারা কারাগারে ছিলাম, তারা কেউ জুলাইকে অস্বীকার করতে পারব না। আমি জামায়াতের দায়িত্বে থাকার সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। তিনি দেশের প্রতি সবসময় আপসহীন ছিলেন। দেশের স্বার্থে সব বিষয়ে অটল ছিলেন।

জুলাইযোদ্ধাদের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা। গণভোটের রায় অনুযায়ী আমরা যেমন সংসদ সদস্য, একইভাবে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য। আমাদের সরকারি দলের বন্ধুরা অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন বলেই বিশ্বাস করি। ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার চাই, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই, গুম-খুনের বিচার চাই, বিগত সময় হওয়া লুটপাট ও দুর্নীতির বিচার চাই, জুলাই মানে নতুন বন্দোবস্ত গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈষম্যহীন দেশ। জুলাই মানে আধিপত্যবাদমুক্ত, ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশ। জুলাই মানে মানবিক মর্যাদা ও দায় ও দরদের বাংলাদেশ।

জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের সময় ডিবি অফিসে আটকে রেখে চোখ বেঁধে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর উপর্যুপরি অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সব শহীদ এবং বিগত সময়ে গুম-খুনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে  খালেদা জিয়ার দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, এ সংসদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা ১৫ বছর আন্দোলন করেছি, তাদের কেউ এখানে নেই। এই এক জায়গায় আমাদের সবার এক থাকা দরকার যে, আমরা গণতন্ত্রকে সামনে রেখে চলব।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ ধারণ করে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণে জাতি আজ আবদ্ধ। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সরকার, সংসদ নেতা, বিরোধী দল এবং সব সংসদ সদস্যকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে।
পরে জাতীয় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়। শেষে প্রয়াত ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে মোনাজাত করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

আরও পড়ুন

×