জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেটা পূরণ করেছি: সিইসি
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ২০:১৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আমরা জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেটা পূরণ করতে পেরেছি। সবার সহযোগিতায় একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি।
আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ জোরদার করার বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও ইউএনডিপি যৌথভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সিইসি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি সুন্দর ভোট হলে আপত্তিগুলো ওঠে ভোট হয়ে যাওয়ার পরে। এবারও তাই হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সুন্দর একটা নির্বাচনের পর এই প্রথম আমি আপনাদের সাথে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছি। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতির কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছি। আমি এখনো এমন একজন ব্যক্তিকেও পাইনি যিনি বলেছেন যে, তিনি নির্বাচনের দিন ভোট দিতে পারেননি। আমি অনেককে জিজ্ঞেস করেছি, এ কথা কেউ বলেননি।’
কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই ভোটাররা ভোট দিতে পেরেছেন উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনকালে ভোটাররাও তাকে বলেছেন, কোনো সমস্যার সম্মুখীন হননি। বয়স্ক নারীরাও ভোট দিতে এসে কোনো বাধাবিপত্তি মোকাবিলা করেননি বলে জানিয়েছেন। সবাই বলেছেন তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনে ব্যবহৃত অমোচনীয় কালির মান নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘কালি তো উঠছে না। ভয় হচ্ছে সামনের লোকাল গভর্নমেন্ট (স্থানীয় সরকার) নির্বাচনে এই কালি নিয়ে ভোট দিতে গেলে আবার ধরা খাই কিনা!’
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি নিজেও পরীক্ষা করে দেখেছি, আমার হাতের কালি এখনো আছে। আমি জানি না স্টিভ লিজ (সরবরাহকারী) কী ম্যাজিক করেছেন। দেশের ইতিহাসে এবারই আমরা সেরা মানের কালি দিয়েছি। সাধারণত ভোট দিয়ে ঘষা দিলে কালি চলে যায়। কিন্তু এবারের কালি অবিশ্বাস্য রকম টেকসই।’
‘সংখ্যালঘু’ শব্দের ব্যবহারে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে মাইনরিটি কিসের? আমরা তো এক জাতি। ধর্মীয় অর্থে হয়তো বিভাজন করা হয়। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সবাই সমান এবং সবার সমান অধিকার।’
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জিডিপিতে নারীদের গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন করা হয় না। নারীদের ঘরের কাজের অবদান আর্থিক মূল্যে হিসাব করা হলে দেশের জিডিপি বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ বেশি হয়ে যেত।
নাসির উদ্দিন বলেন, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে নারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। ভোটের পর অনেক অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- কোনো নারী প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নারী নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
তিনি জানান, আগে নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখের ব্যবধান ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে সেই গ্যাপ এখন ১০ লাখে নেমে এসেছে।
সিইসি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত দাঁড়িয়ে আছে নারীদের ওপর, তাই তাদের কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে অপপ্রচারের কারণে নারীদের অবদানকে খাটো করে দেখানো হয়। এ অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। যখন আমরা আরও সভ্যতার দিকে এগিয়ে যাব, এটা আস্তে আস্তে কমে আসবে। নারীরা সমাজ গঠনে যত এগিয়ে আসবে, আমরা ততই উন্নয়ন করব। নারী উন্নয়নে আমাদের আরও কাজ করতে হবে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার প্রমুখ।
এছাড়া ইসি’র অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ, ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং, ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
- নির্বাচন
- ইসি
- সিইসি
