জ্বালানিসংকট
হাসপাতালসেবা সচল রাখতে বাড়তি তেল মজুত চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
অনুষ্ঠানে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৯:০৮ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৯:০৮
দেশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে বাড়তি জ্বালানি মজুত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। অথচ হাসপাতালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র), সিসিইউ (করোনারি কেয়ার ইউনিট), নবজাতক ওয়ার্ড এবং লেবার রুম ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, এই বাস্তবতা বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা জ্বালানি মজুত রাখতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়িয়ে জেনারেটর প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতে বিকল্প হিসেবে দুটি করে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন রাখা হচ্ছে, যাতে একটি লাইনে সমস্যা হলে অন্যটি দিয়ে সেবা চালু রাখা যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়।
হিলিয়াম গ্যাসের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে আমদানির প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে অসাধু চক্রের কারসাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু মোটরসাইকেলচালক বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল কিনে মজুত করছে এবং পরে বেশি দামে বিক্রি করছে। অথচ মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির তুলনায় বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালে আইসিইউ চালু বা সচল করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন আইসিইউ চালু হয়েছে, যাতে স্থানীয় রোগীদের ঢাকায় না আসতে হয়।
করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিএনসিসির হাসপাতালেও দুটি ওয়ার্ড বরাদ্দ দিয়ে আইসিইউ চালু করা হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে ২০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৪০ জন চিকিৎসক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালেও আইসিইউ চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আরও ছয়টি ভেন্টিলেটর প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে তিনটির ব্যবস্থা ইতোমধ্যে করা হয়েছে এবং বেসরকারি খাত থেকেও সহযোগিতা আসছে।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
