চুক্তি বাতিলের প্রতিবাদে খামারবাড়িতে আউটসোর্সিং চালকদের বিক্ষোভ
চুক্তি বাতিলের প্রতিবাদে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত গাড়িচালকদের বিক্ষোভ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৬:১৭ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৬:২২
রাজধানীর খামারবাড়িতে চুক্তি বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত গাড়িচালকরা। আজ সোমবার সকাল থেকে তারা খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন এবং দ্রুত তাদের পুনর্বহালের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীরা জানান, ডিএই-এর অধীনে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫৭ জন গাড়িচালকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা হঠাৎ করেই চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০ জন ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মেসার্স ওয়াসি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে এবং ১০৭ জন ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সর্বশেষ নভেম্বর ও জানুয়ারিতে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও পুনর্নিয়োগের কোনো উদ্যোগ না থাকায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প বেতন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই তারা দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। কিন্তু কোনো পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ চুক্তি বাতিল করায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছেন।
রুবেল নামে এক চালক বলেন, ‘বছরের পর বছর কাজ করেও আমরা স্থায়ী হইনি। এখন আবার একেবারে কর্মহীন হয়ে পড়েছি।’
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। দ্রুত পুনর্বহাল, পাওনা পরিশোধ এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।
মাঠপর্যায়ের কৃষি কার্যক্রম ব্যাহতের শঙ্কা
এদিকে চালক সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠে যাওয়া, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ফসলের রোগবালাই পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজে পরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চালক না থাকলে এসব কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়বে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজের চাপ কমেনি, বরং বেড়েছে। কিন্তু যানবাহন চালানোর জন্য চালক না থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষকদের কাছে সেবা পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত সরকারি যানবাহন চালকবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ও বাড়বে।
তবে এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
