ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ওষুধ ঠিক আছে, কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে আসছে না

ওষুধ ঠিক আছে, কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে আসছে না
×

 অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন তাদের ছিটানো মশার ওষুধের মান পরীক্ষা করে তা কার্যকর দেখতে পেয়েছে। কিন্তু ওই ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। 
নিজেদের পরীক্ষার দুই সিটি করপোরেশন দেখেছে, তাদের ওষুধে ঠিকই মশা মরছে। এমনকি অন্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়েও ওষুধ পরীক্ষা করিয়ে একই ধরনের প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু মশা কেন বাগে আসছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

মশার ওষুধ জালিয়াতির ঘটনায় ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্তির নজিরও আছে। এক দেশের ওষুধ অন্য দেশের বলে চালিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ধরা পড়েছিল। মশার ওষুধের ড্রামে পানি মেলার ঘটনাও ধরা পড়েছিল। কিন্তু এবার বছর ধরে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে খোদ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি হয়। ফলে তারা সম্প্রতি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের দ্বারস্থ হয়েছে। দৈবচয়নের মাধ্যমে এ দুটি দপ্তর রাজধানীর পাঁচটি অঞ্চল থেকে মশককর্মীদের কাছ থেকে ব্যবহৃত ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে।

মশককর্মীর বোতলে থাকা ওষুধ, মেশিনের জারে থাকা ও স্প্রের সময় নলের মুখ থেকে বের হওয়া ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠান দুটি। সম্প্রতি দুটি দপ্তর তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, শাহজাহানপুর ঝিল ও আশপাশের এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ওষুধ ৫০টি মশার লার্ভার ওপর প্রয়োগ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব লার্ভারই মৃত্যু হয়। লার্ভিসাইডিংয়ে ব্যবহৃত টেমিফস-৩ ওষুধের ক্ষেত্রে আইইডিসিআর এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং একই ধরনের প্রতিবেদন দেয়। এটাকে বলা হয়, বায়োলজিক্যাল এফিকেসি।
একইভাবে ওসমানী উদ্যান, বেইলি রোডসহ অন্যান্য এলাকা থেকেও একইভাবে দৈবচয়ন ভিত্তিতে অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ে ব্যবহৃত ম্যালাথিয়ন ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ম্যালাথিয়নের ক্ষেত্রে আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওসমানী উদ্যান এলাকায় ব্যবহৃত ওষুধ ব্যবহারের ফলে ২০ মিনিটের মধ্যেই ৬৮ শতাংশ মশার মৃত্যু ঘটে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শতভাগ মশার মৃত্যু হয়। অবশ্য কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ২০ মিনিটের মধ্যে মৃত্যুর হারে সামান্য তারতম্য আছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শতভাগ মশারই মৃত্যু হয়। 

ওষুধের মান ঠিক থাকার পরও মশা কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না– এ বিষয়ে জানতে চাইলে মশক বিশেষজ্ঞ ড. ইন্দ্রানী ধর বলেন, ল্যাবরেটরিতে ওষুধের নমুনা পরীক্ষার সময় যে ফল পাওয়া যায়, বাস্তবে প্রয়োগের সময় সেই ফল নাও মিলতে পারে। কারণ, তারা একটি ল্যাবে কিছু মশার ওপর ওষুধ প্রয়োগ করে পরীক্ষা করে। অথবা একটি কম্পাউন্ডের মধ্যে একটি মশারির ভেতরে মশা রেখে ফগিং করে। তখন ফলাফল ভালো পাওয়া গেলেও মাঠ পর্যায়ে সেটা পাওয়া মুশকিল। কারণ, মশককর্মীরা মাঠে ওষুধ ছিটানোর পর মশা উড়ে যেতে পারে। সব মশার শরীরে ওষুধ নাও লাগতে পারে। আবার বাতাসও একটি ব্যাপার। তিনি বলেন, সপ্তাহে যে কদিন এবং যে পরিমাণ ওষুধ স্প্রে করার কথা, সিটি করপোরেশনের সেই পরিমাণ করা সম্ভব হয় না। এ জন্য ওষুধ ঠিক থাকলেও মশা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার সমকালকে বলেন, আধুনিক পরিচ্ছন্ন শহর হলে এই ওষুধ দিয়েই মশা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। কিন্তু ঢাকা শহরের অবস্থা সে রকম নয়। এখানে নালা, জলাশয়, অলিগলি, বর্জ্যের স্তূপ, মানুষের অসচেতনতাসহ মশার বংশ বিস্তারের যত ধরনের অনুকূল পরিবেশ থাকা দরকার, তার সবই আছে।

আরও পড়ুন

×