ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাইবার সুরক্ষাসহ সংস্কারমূলক কিছু আইন হচ্ছে

হচ্ছে বাণিজ্যিক আদালত আইন

সাইবার সুরক্ষাসহ সংস্কারমূলক কিছু আইন হচ্ছে
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:১৮ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশকে পরিবর্তন ছাড়াই আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, বাণিজ্যিক আদালত, আইনগত সহায়তা, ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন এবং দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন অধ্যাদেশকেও আইনে পরিণত করা হচ্ছে। এসব অধ্যাদেশের ফলে নাগরিক সুরক্ষা এবং ভোগান্তি কমেছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে জারি করা অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে, ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের পর কার্যকারিতা হারাবে। 

গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটির ৯৮টি অধ্যাদেশ পরিবর্তন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ। আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রথমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়। এই আইনের ৫৭ ধারায় সামাজিক মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে প্রায় হাজারখানেক ব্যক্তি কারাগারে যান। সরকারের সমালোচনা করে দণ্ডিত হন কয়েকশ ব্যক্তি। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ মন্ত্রী-নেতাদের সাইবার স্পেশে কটূক্তি করার অভিযোগ অনেক মামলায় হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এসব মামলায় দণ্ডিত হন অন্তত ২০০ ব্যক্তি। সমালোচনার মুখে আওয়ামী লীগ আইনটি বাতিল করে, সাইবার নিরাপত্তা আইন করেছিল। সেখানেও ছিল নিবর্তনমূলক অনেক ধারা। সাইবার নিরাপত্তা আইনেও অনেক ব্যক্তি জেল খেটেছেন। 

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ করে, অতীতের আইনে করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। এই অধ্যাদেশে হ্যাকিং, ডিভাইসে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ, অনলাইন জুয়া, যৌন হয়রানি, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং, অশ্লীল বার্তা, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছাড়ানো, রিভেঞ্জ পর্নোসহ বিভিন্ন কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সাজার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, নেতাকে কটূক্তি বা সমালোচনার জন্য শাস্তির বিধান নেই। 

তবে সাইবার স্পেসে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ঘৃণামূলক বা জাতিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং যা সহিংসতা তৈরি করে, তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কটূক্তির মামলায় কাউকে কারাগারে যেতে হয়নি। তাই সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে সংসদের বিশেষ কমিটি। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে ১১৮ বছরের পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধি এবং দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনে জারি করা অধ্যাদেশ দুটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ দুটির কারণে মামলার  নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের জন্য সুবিধা হয়েছে। 
বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশকেও খুবই ফলপ্রসূ বলেছে আইন মন্ত্রণালয়। বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক আদালত প্রতিষ্ঠার ফলে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হচ্ছে, বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতা পদ্ধতি কার্যকর হয়েছে। 

 

আরও পড়ুন

×