বায়রা সদস্যদের হুঁশিয়ারি
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরণ অনশন
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বায়রার সিন্ডিকেটবিরোধী সদস্যরা। ছবি-সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:৪৯
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একাংশ। দাবি না মানা হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সিন্ডিকেটবিরোধী সদস্যরা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক ইসি সদস্য মোস্তফা মাহমুদ বলেন, ‘বারবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরা আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হবো। আমরা চাই, সবার জন্য সমান ব্যবসার সুযোগ। কেবল ১০০ জন কেন এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে?’
তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান মোস্তফা মাহমুদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম– যেমন এফডব্লিউসিএমএস, এসপিপিএ ইত্যাদির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এর ফলে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ৪৭ হাজার থেকে ৭৯ হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, বর্তমানে নতুন করে ‘ট্রাফ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবারও সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা চলছে। ‘গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার’ নামে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়, যা মূলত এজেন্সি ও কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের কৌশল বলে তারা মনে করেন।
তাদের অভিযোগ, নতুন প্রস্তাবের আড়ালে ২৫টি এজেন্সিকে নিয়ে একটি গোপন সিন্ডিকেট গঠন করা হয়েছে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত হতে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ এজেন্সিগুলো বাজার থেকে ছিটকে পড়বে এবং কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রয়োজনে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিক, তবুও সিন্ডিকেটনির্ভর কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণ করা উচিত হবে না। তারা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত করে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
- বিষয় :
- সংবাদ সম্মেলন
- ডিআরইউ
- মালয়েশিয়া
- শ্রমবাজার
- সিন্ডিকেট
