ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লবণাক্ততার চাপ

উপকূলের নারী সমন্বিত জীবিকা পরিকল্পনা চূড়ান্ত

উপকূলের নারী সমন্বিত জীবিকা পরিকল্পনা চূড়ান্ত
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৪:৫৮

জলবায়ু পরিবর্তনের–অভিঘাতের সঙ্গে লবণাক্ততার ক্রমবর্ধমান চাপ–এই দ্বৈত সংকটে দেশের উপকূলীয় নারীরা পড়ছেন বহুমুখী ঝুঁকিতে। জীবিকা, স্বাস্থ্য, পানীয় জলের সংকট থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা–সবখানেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই বাস্তবতায় তাদের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত জীবিকা পরিকল্পনা ও নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘রেজিলিয়েন্ট ফিউচারস: জেন্ডার-সংবেদনশীল জীবিকা উপকরণ ও জলবায়ু পথরেখা বিষয়ক ভ্যালিডেশন কর্মশালা’য় গতকাল সোমবার এসব নির্দেশিকা উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় সরকারি দপ্তর, উন্নয়ন সহযোগী এবং মাঠপর্যায়ের অংশীজনেরা অংশ নেন।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর (ডিডব্লিউএ) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) যৌথভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরার পাঁচটি উপজেলায় একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবিলায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ট্রেইনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইপিটিএম)। কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউএনডিপি এবং অর্থায়ন করছে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) ও বাংলাদেশ সরকার।

কর্মশালায় জানানো হয়, উপকূলীয় নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রশিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রম (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স), পরিস্থিতিভিত্তিক জেন্ডার-সংবেদনশীল জীবিকা পরিকল্পনা টুলকিট এবং ২০৫০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জলবায়ু প্রভাবের পূর্বাভাসসংবলিত একটি বিশদ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এসব উপকরণের কার্যকারিতা ও প্রয়োগ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জিনাত আরা বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। অনুমোদিত এই উপকরণ ও পথরেখা নারীদের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা জোরদার করবে এবং তাঁদের ক্ষমতায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ইউএনডিপির রেজিলিয়েন্স ও ইনক্লুসিভ গ্রোথ ক্লাস্টারের প্রধান সরদার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বৈশ্বিক পরিসরে অগ্রগামী। এই প্রকল্প সেই অগ্রগতিকে আরও দৃশ্যমান করবে।

সভাপতির বক্তব্যে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক (এনপিডি) আবদুল হাই আল মাহমুদ বলেন, অনুমোদিত এসব উপকরণ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু সহনশীল জীবিকা সম্প্রসারণে বাস্তব পরিবর্তন দেখা যাবে।

কর্মশালায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপকূলের লবণাক্ত অঞ্চলে নারীর জন্য টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন

×