ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অতিরিক্ত উৎপাদন ও জোরপূর্বক শ্রম নেই মনে করছে সরকার

অতিরিক্ত উৎপাদন ও জোরপূর্বক  শ্রম নেই মনে করছে সরকার
×

 মেসবাহুল হক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা বা উৎপাদনের প্রবণতা নেই। একই সঙ্গে শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রমের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের  পর্যবেক্ষণ এমনই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত শুনানির আগে আজ বুধবার দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা এবং উৎপাদন খাতের সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের বিষয়টি যাচাই করতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়ে শুনানি শুরু হবে ২৮ এপ্রিল। উৎপাদন খাতের সক্ষমতা-সংক্রান্ত শুনানি শুরু হবে আগামী ৫ মে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, ইউএসটিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আজ বুধবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ট্রেড আইনের ‘৩০১ ধারা’ অনুযায়ী উৎপাদন সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের বিষয়টি উত্থাপন করলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ অভিযোগ প্রযোজ্য নয়। কারণ, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প মূলত ক্রেতাদের ক্রয় আদেশের ভিত্তিতে উৎপাদন ও রপ্তানি করে। বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো ব্র্যান্ডভিত্তিক অতিরিক্ত উৎপাদন নেই। ফলে এখানে ওভার ক্যাপাসিটির প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি আরও বলেন, এক সময় সিমেন্ট খাতে কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানির অতিরিক্ত উৎপাদনের বিষয় থাকলেও বর্তমানে সে পরিস্থিতি নেই। এখন দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যে পরিমাণ উৎপাদন করছে, তা দেশের চাহিদার তুলনায় বরং কম। এ ছাড়া সিমেন্ট রপ্তানি হয় না এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও এ পণ্য আমদানি করা হয় না। তাই এ খাতেও ওভার ক্যাপাসিটির প্রসঙ্গ প্রযোজ্য নয়। তিনি বলেন, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কোনো শিশুশ্রম বা জোরপূর্বক শ্রম নেই। এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হবে। ফলে সরকার মনে করে, উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান চূড়ান্ত করতে দুই কর্মদিবসের মধ্যে মতামত চেয়ে গত সোমবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মতামত পেলেই অবস্থানপত্র চূড়ান্ত করা হবে। 

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বাজারে ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। চলতি বছর তা কমে ১৯ শতাংশে আসে। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এ পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরদিন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
গত ১১ মার্চ উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় এ তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় ইউএসটিআর। বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও এ তদন্তের আওতায় থাকবে। ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পারস্পরিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পর এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর বা চূড়ান্ত করেছিল।

তদন্ত প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, অন্য দেশের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শিল্প সক্ষমতা বিনষ্ট হতে দেবে না। অর্থাৎ এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না, যেখানে অন্য দেশগুলো তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের চাপ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঠেলে দেয়। তাঁর মতে, এ তদন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিল্প খাত পুনরুজ্জীবন নীতির অংশ।
গত ১২ মার্চ পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে পৃথক তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানায়, কোনো পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহৃত হলে সেই পণ্য আমদানিনিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত বা বৈষম্যমূলক, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে এসব নীতি বা অনুশীলন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কিনা, তা মূল্যায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন

×