ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিএনপির দুই পক্ষের হাতাহাতিতে পণ্ড কেআইবির জরুরি সভা

বিএনপির দুই পক্ষের হাতাহাতিতে পণ্ড কেআইবির জরুরি সভা
×

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) ভবন

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:১৭ | আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:৫২

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) জরুরি তলবি সাধারণ সভা পণ্ড হয়ে গেছে। রাজধানীর ফার্মগেটে কেআইবি মিলনায়তনে বিএনপিপন্থি কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় সভা পণ্ড হয়ে যায়। শনিবার সকাল ১১টার দিকে কেআইবির হলরুম-১ এ এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব ও যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শফিকুল ইসলাম শফিকের অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে উপস্থিত কৃষিবিদদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কেআইবির জরুরি তলবি সভা আহ্বান করেছিলেন এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব। শনিবার সকাল ১১টায় কেআইবির সদস্যরা সভায় উপস্থিত হন। সভার শুরুতেই কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। শাহাদত হোসেন বিপ্লব সভায় সভাপতিত্বের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সাবেক মহাপরিচালক ইব্রাহিম খলিলের নাম প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে ড. শফিকুল ইসলাম শফিক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. গোলাম হাফিজ কেনেডির নাম প্রস্তাব করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় শফিকুল ইসলাম শফিকের অনুসারীদের হামলায় কৃষিবিদ টিপু আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সভা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

কেআইবিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০০৯ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো নির্বাচন হয়নি। এ সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগপন্থি বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল কেআইবিতে। বিভিন্ন সময়ে তফসিল ঘোষণা করা হলেও দলীয় কোন্দল, মামলা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে নির্বাচন বারবার স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালেও নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের পর কেআইবির নিয়ন্ত্রণ নেয় বিএনপিপন্থি কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাব। তবে সংগঠনটির ভেতরেই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি একই সংগঠনের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০ জানুয়ারি লে. কর্নেল (অব.) মো. আব্দুর রব খানকে কেআইবির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর সাত সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকেই এ্যাবের একটি অংশ জাতীয় নির্বাচনের আগে কেআইবির নির্বাচন না করার দাবি জানিয়ে আসছে।

এ প্রেক্ষাপটে ২০ অক্টোবর কেআইবি কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে সংগঠনটি। এরপর ২৭ অক্টোবর বিকেলে এ্যাবের একদল নেতাকর্মী কেআইবি ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। ওই সময় প্রশাসককে প্রায় এক ঘণ্টা তাঁর দপ্তরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং পদত্যাগের হুমকি দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের নামফলক, অফিস সরঞ্জাম, সিসি ক্যামেরা এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের হার্ডডিস্ক। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় মামলা করে কেআইবি কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষের ঘটনায় কেআইবির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

×