ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা, মেজবাহ-বৃষ্টি দম্পতির ‍বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা, মেজবাহ-বৃষ্টি দম্পতির ‍বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
×

স্বামী মো. মেজবাহ উদ্দিন ও রাজিয়া রহমান বৃষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:২৮ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:৪৬

ঢাকার একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজিয়া রহমান বৃষ্টি ও তার স্বামী মো. মেজবাহর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ মামলাটি শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একইসঙ্গে আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমনে আসামিদের নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন বিচারক।

প্রতারণার অভিযোগে গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন গ্লোব শিল্প পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা আতিকুল্লাহ খানের স্ত্রী শামীমা আতিকুল্লাহ খান। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে গ্লোব শিল্প পরিবারের সাবেক চিফ বিজনেস অফিসার রাজিয়া রহমান বৃষ্টিকে। এছাড়া তার স্বামী মো. মেজবাহ উদ্দিন, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম এবং সহযোগী মো. শওকত আলির নামও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, বাদী ও আসামির মা স্কুলজীবন থেকে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন। ফলে আসামি রাজিয়া রহমান বৃষ্টিকে শিশুকাল থেকেই নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন এবং পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে বিবেচনা করতেন। তাদের পরিবার অসচ্ছল ছিল। ফলে তাকে চাকরিও দেওয়া হয়। এছাড়াও তাকে মো. মেজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গ্লোব জনকন্ঠ শিল্প পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ খান মাসুদ আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। শামীমা আতিকুল্লাহ খান পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন। তার বৃদ্ধ বয়স ও অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে নিজেকে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হিসেবে উপস্থাপন করেন বৃষ্টি। জনতা ব্যাংকে ভালো জানাশোনা আছে জানিয়ে ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্ররোচিত করে ব্যাংকের সঙ্গে শামীমার আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংকের সাথে দরকষাকষির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মামলায় বলা হয়, ঋণ পরিশোধের জন্য জমি বিক্রয় ও অন্যান্য উৎস হতে নগদে ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও ১৫টি পে-অর্ডারে ৭০ কোটি ৯৮ লাখ সাত হাজার ৫০০ টাকাসহ মোট ৮০ কোটি ২৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করে ঋণ নিয়মিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বৃষ্টি সব নগদ অর্থ ও পে-অর্ডার তার কাছে দিতে বলেন। পরে তারা সব টাকা হাতিয়ে নেয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা প্রতারণার আশ্রয় নেন। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঋণ সমন্বয়ের অজুহাতে একাধিক তারিখবিহীন চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই চেকগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×