ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ কোটি টাকা পেয়েছেন রিফাত, আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ কোটি টাকা পেয়েছেন রিফাত, আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার
×

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৫৫ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:০৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ ক্যাম্পেইন’ পরিচালনার জন্য সারাদেশে প্রচারণা চালাতে এক কোটি টাকা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ। তবে এসব টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার রাতে এক ভিডিও বক্তব্যে রিফাত রশিদ এসব দাবি করেন। তিনি বলেন, গণভোটের প্রচারণায় ব্যবহৃত অর্থের বিষয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা ‘ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক।’

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ আনেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটির সাবেক এই সভাপতি বলেন, গণভোটের ‘হ্যাঁ ক্যাম্পেইন’ পরিচালনার জন্য সারাদেশে প্রচারণা চালাতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে সংগঠনটি নিবন্ধিত না হওয়ায় একটি ফাউন্ডেশন গঠন করে অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। 

রিফাত আরও জানান, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৫ কোটি টাকার একটি চুক্তি হলেও প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকা পাওয়া যায় এবং সেই অর্থ নির্ধারিত শর্ত মেনে ব্যয় করা হয়।

বৈছাআর সাবেক সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত অডিট ফার্মের মাধ্যমে পুরো ব্যয়ের অডিট সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। আমাদের কাজের প্রশংসাও করা হয়েছে।

সিনথিয়া জাহিন আয়েশার প্রসঙ্গে রিফাত রশিদ বলেন, ফাউন্ডেশন গঠনের শুরুতে তিনি যুক্ত থাকলেও পরে নিজেই সরে দাঁড়ান এবং পুরো প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে যান। এরপর তাকে বাদ দিয়েই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী নেতৃত্ব সরে যাওয়ার পর সংগঠনটি চার মাস নেতৃত্বশূন্য ছিল। সেই সংকট কাটাতে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তে একটি উপদেষ্টা প্যানেল গঠন করা হয়েছে, যা পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

রিফাত রশিদ অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ‘বিতর্কিত ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্দেশ্যে’ একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ তুলছে। 

তিনি বলেন, ‘যেকোনো তদন্তকারী সংস্থা যদি অভিযোগ তদন্ত করতে চায়, আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করব। প্রয়োজন হলে আমি নিজে গিয়ে সব কাগজপত্র দেব।’ রিফাত দাবি করেন, গত দুই বছরে তার বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি দায় স্বীকার করবেন। 

বক্তব্যের শেষে তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ‘এজেন্সির ফাঁদে পা না দেওয়ার’ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

×