বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা জারি
কর্মজীবনে ৩ বার, নারীদের অগ্রাধিকার
ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ | ০৯:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে নতুন ও সংশোধিত নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার এ প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকেই তা কার্যকর হয়েছে। এই নীতিমালা জারির ফলে দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ চালু হলো।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক চাকরিতে যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হলে প্রথমবার বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে একবার বদলির পর পুনরায় আবেদন করতে হলেও তাঁকে কমপক্ষে দুই বছর বর্তমান কর্মস্থলে থাকতে হবে। একজন শিক্ষক তাঁর পুরো কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। তবে আবেদন করলেই বদলি নিশ্চিত হবে না; এটি সম্পূর্ণরূপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।
এতে আরও বলা হয়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষক থাকলে, প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি বদলির সুযোগ পেতে পারেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করবে। ওই শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষকরা আবেদন করতে পারবেন। একজন সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম তাঁর আবেদনে উল্লেখ করতে পারবেন।
বদলি-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) দায়িত্ব পালন করবেন। তবে পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারবে।
নারীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার
নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বদলির ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া। কোনো শূন্যপদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে প্রথমেই নারী প্রার্থীদের বিবেচনা করা হবে।
এরপর পর্যায়ক্রমে বিবেচনায় আসবে বর্তমান কর্মস্থল থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের অবস্থান (সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান) এবং সর্বশেষে চাকরির জ্যেষ্ঠতা, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভাব
সংশোধিত এই বদলি নীতিমালায় ১৮টি শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় ও সীমা নির্ধারণ করায় হঠাৎ বদলির প্রবণতা কমে আসবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে ছোট ছোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী ও নামি শিক্ষকরা খ্যাতনামা পুরোনো ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বদলি হয়ে চলে যেতে চাইবেন। এতে ছোট ও নতুন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রওশন জাহান সমকালকে বলেন, ছোট-বড় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই যেন মেধাবী শিক্ষকরা স্বচ্ছন্দে চাকরি করতে পারেন তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, চাইলেও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে না। এটাই বাস্তবতা। ওই শিক্ষার্থীদেরও ভালোমানের শিক্ষক দিতে হবে।
- বিষয় :
- শিক্ষা
- বেসরকারি শিক্ষক
- এনটিআরসিএ
- এমপিওভুক্ত
