বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবি, বরাদ্দ না হলে ১২ জুন অবস্থান কর্মসূচি
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ১২:১৪ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ | ১২:১৪
সরকার গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ এবং আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে আগামী ১২ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মো. ছালজার রহমান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমন্বয়ক মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ১১-২০ ফোরামের সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।
লিখিত বক্তব্যে মো. লুৎফর রহমান বলেন, গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এ সময়ে সম্মিলিত মুদ্রাস্ফীতি ১০৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো দিয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।
সভাপতির বক্তব্যে মো. ওয়ারেছ আলী অভিযোগ করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে অন্তর্বর্তী সরকার পে-কমিশন গঠন করলেও এখনো গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মানবিক বিবেচনায় দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ১:৪ অনুপাতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ২০১৫ সালের পে-স্কেলে বাতিল হওয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, পদোন্নতি ব্যবস্থা চালু, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশন সুবিধা চালু, ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ এবং ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিও তোলা হয়।
এ ছাড়া সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে বেতন ও পদবৈষম্য দূর করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন এম এ হান্নান, মো. সেলিম মিয়া, মো. রফিকুল আলম, খায়ের আহমেদ মজুমদার, মো. মাহবুব হক তালুকদার, খায়রুন নাহার লিপি, জিয়াউল হক, সাবেরা সুলতানা, হুমায়ুন কবির, মো. কামরুজ্জামান উজ্জ্বল, মো. মুসা মিয়া মণ্ডল ও মো. ফারুক হোসেন মৃধাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী নেতারা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বাজেটে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও দ্রুত গেজেট প্রকাশ না করা হলে আগামী ১২ জুন শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। একই সঙ্গে সেদিন থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
- বিষয় :
- প্রেসক্লাব
- সংবাদ সম্মেলন
- পে স্কেল
