ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে শিশুদের প্রতি সহিংসতা কমবে না: মোমেনা শাহনূর

বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে শিশুদের প্রতি সহিংসতা কমবে না: মোমেনা শাহনূর
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ২১:২৬

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মোমেনা শাহনূর বলেছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে শিশুদের প্রতি সহিংসতা কখনোই কমবে না। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। 

সমাবেশে মোমেনা শাহনূর বলেন, ‘দেশে শত শত নির্যাতনের ঘটনার বিচার হচ্ছে না। একটি ছেলে শিশু মাদ্রাসায় নিরাপদ নয়, কন্যাশিশুরাও কোথাও নিরাপদ নয়।’  

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও নৃশংস আচরণের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটি। 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মোমেনা শাহনূরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। তিনি দাবি করেন, দেশে সংঘটিত সহিংসতার মাত্র ৩ শতাংশ ঘটনার বিচার হয়, বাকি ৯৭ শতাংশ বিচারহীন থেকে যায়। 

তিনি আরও বলেন, ‘মব সন্ত্রাস, প্রতিহিংসার রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা সমাজকে অমানবিক করে তুলছে।’ 

রেখা সাহা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে ৫৫৬ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশু ও তরুণীরা ভয়াবহ যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। 

বক্তারা আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সহিংসতার ধরন বদলেছে, তাই প্রতিরোধ ও প্রতিকারের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। তারা গণপরিবহন ও সাইবার স্পেসে নারী ও কন্যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে প্রস্তাব পাঠ করেন ঢাকা মহানগরের সদস্য কাজী দ্রাকসিন্দ্রা জবীন টুইসি। প্রস্তাবে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ‘শূন্য সহিংসতা নীতি’ গ্রহণ, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি গঠন, সাইবার সহিংসতা রোধে আইনের প্রয়োগ এবং ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে বয়কটের দাবি জানানো হয়। 

এ সময় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ ও বিভিন্ন শাখার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন

×