টেকসই স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করল ব্রিটিশ কাউন্সিল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ১৯:৫৫
বাংলাদেশের টেকসই স্থাপত্য নিয়ে ‘সাসটেইনেবল আর্কিটেকচার প্র্যাকটিস’ শীর্ষক একটি গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টস।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ, নির্মাণখাত-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়নে দেশজুড়ে পরিচালিত এই বিস্তৃত গবেষণা উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছে বেঙ্গল ইনস্টিটিউট। গবেষণায় বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি ও তৃণমূল পর্যায়ে গড়ে ওঠা টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল স্থাপত্যচর্চার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এবং এ খাতের বিকাশ ও যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে নীতিগত সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কাজী খালিদ আশরাফ। প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ড. আতিকুর রহমান, রিপিন কালরা এবং খোন্দকার হাসিবুল কবির।
কাজী খালিদ আশরাফ বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন এখন চিন্তা ও চর্চার ক্ষেত্রে এক নতুন ধারা তৈরি করেছে—বিশেষ করে মানুষ পৃথিবীতে কীভাবে বাস করছে এবং পৃথিবীর সঙ্গে কেমন মিথস্ক্রিয়া করছে, তা নিয়ে। আজ আমরা যাকে টেকসই স্থাপত্য বলছি, তার চর্চা আসলে বহু শতাব্দী ধরেই চলে আসছে। ভিন্ন ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বাস্তবতায় মানুষ স্থানীয় উপকরণ ও সামাজিক সম্পদ ব্যবহার করে নিজেদের বসতি গড়ে তুলেছে।’
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা।
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে টেকসই স্থাপত্যের বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনী চর্চাগুলোকে সামনে আনার এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উদ্যোগে যুক্ত থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। ডিজাইনের মাধ্যমে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের একসাথে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, এই প্রকাশনা তারই প্রতিফলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি এটি জলবায়ু-সহনশীলতা ও সৃজনশীল অর্থনীতি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনাতেও অবদান রাখবে। স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কার্যকর সমাধানগুলো ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে এবং নির্মাণ ও স্থাপত্য খাতে নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে বলে আমরা আশা করছি।’
গবেষণায় ২০১৫ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের টেকসই স্থাপত্যচর্চা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ বিশ্লেষণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে একটি স্কোপিং রিপোর্ট, উদ্ভাবনী ও টেকসই নকশার কয়েকটি কেস স্টাডি এবং স্থাপত্যে টেকসই উন্নয়ন ও সহনশীলতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশভিত্তিক একটি নীতি-প্রতিবেদন। গবেষণার ফলাফল আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানসহ আরও কয়েকটি উন্মুক্ত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগ সৃজনশীল অর্থনীতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে সহায়তায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীলতা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও নীতিনির্ধারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
- বিষয় :
- বাংলাদেশ
- টেকসই সমাধান
- প্রতিবেদন
