ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনায় ঈদ ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনায় ঈদ  ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন
×

মাহদী আমিন

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া গণমুখী উদ্যোগে জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর দশ নির্দেশনায় এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ও সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এই ঈদে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তন এসেছে। 

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঈদপরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এ সময় এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি গণমুখী উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, টানা ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও জবাবদিহিহীনতার যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা মুহূর্তেই বদলে ফেলা কোনো জাদুকরী মন্ত্রের পক্ষেও অসম্ভব। 

দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
মাহদী আমিন বলেন, নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। প্রতিবছরের চেনা ছবি, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার যানজট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি, এবারের ঈদযাত্রায় তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল। 

শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ 
উপদেষ্টা আরও বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে শ্রমবান্ধব সরকারের উদ্যোগে সব ব্যাংক এবং অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে কারখানার শ্রমিক, মালিক ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের শিল্পাঞ্চলজুড়ে বিরাজ করেছে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ 
মাহদী আমিন বলেন, স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদি পশু অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বাজারে দেশি গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দেশজুড়ে কোরবানির পশুর সংকট তৈরি হয়নি। 
তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও দেশের বড়-বড় পৌরসভাগুলোতে ঈদের দিন দুপুর থেকেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও অতিরিক্ত জনবল নিশ্চিত হয়। কোরবানির পরবর্তী ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। 

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর নজরদারি ছিল। লঞ্চঘাট রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ কুলি ও হকারমুক্ত, মালপত্র বহনের জন্য কোনো যাত্রীকে টাকা খরচ করতে হয়নি। 
তিনি বলেন, পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ও শক্ত ভূমিকা রেখেছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি, মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের প্ররোচনায় অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়েনি।

লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ 
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ঈদের ছুটিতে কলকারখানা বন্ধ থাকার সুযোগ এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একটি সমন্বিত ও কার্যকর বিদ্যুৎ পরিকল্পনা গ্রাহক পর্যায়ে বাস্তবতার আলোকে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।

তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া কোরবানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’নামে আলোচিত মহিষটির সংরক্ষণ ও চিড়িয়াখানায় প্রেরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়িয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে। 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীলতা
লবণের জোগান নিশ্চিত করা এবং ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য যথারীতি আগেভাগেই নির্ধারণ করে দেয় সরকার বলে জানান এ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, মৌসুমি

ব্যবসায়ীরা অতীতে চামড়ার দাম না 
পেয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, এবার মাঠপর্যায়ে নজরদারির কারণে চামড়া অবিক্রীত থাকার বা নষ্ট হওয়ার হার অনেকটাই কমেছে। 
মাহদী আমিন বলেন, ঈদের আগে চাল, ডাল, মসলা, তেল, চিনিসহ কোরবানি-সংশ্লিষ্ট নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার তদারকি পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকা সত্ত্বেও উৎসবের সুযোগ নিয়ে খুচরা বাজারে যেভাবে হঠাৎ দাম আকাশচুম্বী করা হতো, এবার সরকারি নজরদারির কারণে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। 

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী 
ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সংস্কৃতি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দিয়ে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার না করে দলীয়ভাবে পালিত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়নি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়নি, কিংবা জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে রাষ্ট্রীয় আড়ম্বরের প্রদর্শনীও করা হয়নি। 
সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×